টেস্টে দুর্দান্ত ফর্মে শুভমন ও যশস্বী, এশিয়া কাপেও চোখ তাঁদের দিকে
সম্প্রতি ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে শুভমন গিল ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়ে তিনি নজর কেড়েছেন নির্বাচকদের। পাশাপাশি যশস্বী জয়সওয়ালও ভালো ব্যাটিং করেছেন। এই দুই তরুণ ক্রিকেটারকে ঘিরে এখন ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট এবং নির্বাচকদের মধ্যে ভাবনা চলছে, তাঁদের কি এশিয়া কাপ ২০২৫-এর দলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে?
সাদা বলের ক্রিকেটে শুভমন-যশস্বী, কিন্তু সুযোগ কোথায়?
যদিও দু’জনেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন, তাঁদের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুলাই। এর পরে কিছুদিন তাঁদের বিশ্রামে রাখা হয়েছিল। এখন আবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং এশিয়া কাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে তাঁদের ফেরানো হতে পারে দলে। তবে প্রশ্ন উঠছে, তাঁদের স্থান কোথায় হবে প্রথম একাদশে?
বর্তমানে ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে ওপেনার হিসেবে সঞ্জু স্যামসন এবং অভিষেক শর্মা ভালো ফর্মে রয়েছেন। তিনে তিলক বর্মা, চারে সূর্যকুমার যাদব—সবাই প্রায় পাকা জায়গায় রয়েছেন। এ অবস্থায় শুভমন ও যশস্বীর জায়গা বার করা কঠিন বলেই মনে করা হচ্ছে।
আইপিএলের পারফরম্যান্স বলছে অন্য কথা
যদিও আইপিএল ২০২৫-এ তাঁদের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শুভমন গিল ৬৫০ রান এবং যশস্বী জয়সওয়াল ৫৫৯ রান করেছিলেন, যা টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত সাফল্য। এই পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন,
“ওরা প্রথম একাদশে সুযোগ পেতে অসুবিধায় পড়বে না। সঞ্জু-অভিষেক ভালো খেললেও, শুভমন-যশস্বী অনায়াসে দলে জায়গা পেতে পারে।”
ম্যাচ সূচি নিয়ে ভাবনায় নির্বাচকেরা
এশিয়া কাপ চলবে ২১ দিনের ক্রিকেট ফরম্যাটে। যদি ভারত ফাইনালে পৌঁছে, তবে মোট ৬টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে হবে। এটাই নির্বাচকদের ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু—এত কম সময়ের জন্য কি শুভমন এবং যশস্বীকে ফর্মে ফিরিয়ে আনা সম্ভব?
আরও বড় বিষয় হলো, এশিয়া কাপ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে। ফলে শুভমন ও যশস্বীর উপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে কিনা, তা নিয়েও চলছে চিন্তাভাবনা। নির্বাচকরা চাইছেন, যেন কোনোভাবেই তাঁদের ফর্ম ও ফিটনেসে প্রভাব না পড়ে।
১৭ জনের স্কোয়াডে সম্ভাবনা থাকছেই
নির্বাচকরা সাধারণত ১৭ সদস্যের স্কোয়াড নির্বাচন করেন। এমন পরিস্থিতিতে, ফর্মে থাকা শুভমন ও যশস্বীকে রিজার্ভ নয়, মূল দলে জায়গা দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ৬টি ম্যাচে রোটেশন সিস্টেম চালু থাকলে তাঁদের একাধিক ম্যাচে খেলার সুযোগও পেতে পারেন।
নজরে সাই সুদর্শনও
শুধু শুভমন ও যশস্বী নয়, বোর্ডের পরিকল্পনায় রয়েছেন আরও এক তরুণ তারকা—সাই সুদর্শন। আইপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পর থেকে তিনিও নির্বাচকদের নজরে রয়েছেন। সম্ভাব্য স্কোয়াডে তাঁর নাম থাকাও অস্বাভাবিক নয়।
সুযোগ পেতে পারেন, কিন্তু প্রতিযোগিতা কঠিন
এশিয়া কাপ ২০২৫-এর দলে শুভমন গিল ও যশস্বী জয়সওয়াল থাকা একপ্রকার নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছে। তবে প্রথম একাদশে জায়গা করে নেওয়া হবে তাঁদের জন্য কঠিন, কারণ বর্তমান ব্যাটিং লাইনআপ বেশ শক্তিশালী এবং ফর্মেও রয়েছে।
অবশ্য ম্যাচ সংখ্যা কম হওয়ায় রোটেশনের সুযোগ থাকছে, ফলে অন্তত ২-৩টি ম্যাচে তাঁদের মাঠে দেখা যেতেই পারে। এছাড়া টেস্ট সিরিজকে সামনে রেখেও তাঁদের বুদ্ধিমানের মতো ব্যবস্থাপনা করতে হবে বোর্ডকে, যাতে তাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে ভারতীয় দলের সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন।


