৩৭ বলে শতরান করে বিশ্বরেকর্ডের দোরগোড়ায় টিম ডেভিড
মাত্র ৩৭ বলে শতরান করে চমক দেখালেন অস্ট্রেলিয়ার হার্ডহিটার ব্যাটার টিম ডেভিড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে রান তাড়ায় নামা এই ডানহাতি ব্যাটার অল্পের জন্য মিস করলেন রোহিত শর্মা ও ডেভিড মিলারের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি শতরানের বিশ্বরেকর্ড। তবে তিনি গড়েছেন নতুন এক নজির—আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে দ্রুত শতরানের রেকর্ড এখন তারই দখলে।
অসাধারণ ফর্মে ফিরেই ঝড়ো ইনিংস
প্রায় দুই মাস পর চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরেন ডেভিড। মাঠে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন। ২৩ মে-র পর হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। আইপিএলের শেষদিকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলতে না পারলেও তার দল শেষ পর্যন্ত ট্রফি জিতেছিল। সেই হতাশা দূর করে এবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামতেই ইতিহাস গড়লেন তিনি।
১১ ছক্কায় বিধ্বংসী ব্যাটিং: উইন্ডিজ স্পিনারদের উপর তাণ্ডব
২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাওয়ার প্লে-র শেষ ওভারে ব্যাট হাতে নামেন টিম ডেভিড। তখন অস্ট্রেলিয়া হারিয়েছে তিনটি উইকেট। প্রথম বলেই চার মেরে ইনিংস শুরু করেন তিনি। এরপর একের পর এক ছক্কা মেরে রীতিমতো তাণ্ডব চালান উইন্ডিজ বোলারদের ওপর। বিশেষ করে তিন স্পিনার—গুড়াকেশ মোতি, আকিল হোসেন ও রস্টন চেস—প্রত্যেকের এক একটি ওভারে তিনটি করে ছক্কা হাঁকান ডেভিড। ফলে শুধু এই তিন ওভারেই তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি ছক্কা।
রেকর্ড ভেঙে ১৬ বলে অর্ধশতক
মাত্র ১৬ বলেই হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন টিম ডেভিড। এতদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্রুততম অর্ধশতকের রেকর্ড ছিল মার্কাস স্টোইনিস ও ট্র্যাভিস হেডের দখলে—যারা দু’জনেই ১৭ বলে ফিফটি করেছিলেন। সেই রেকর্ড এখন ইতিহাস।
১২৮ রানের জুটি এবং ম্যাচজয়ী শতরান
চতুর্থ উইকেটে মিচেল ওয়েনের সঙ্গে ১২৮ রানের জুটি গড়েন ডেভিড। সেই জুটিই দলকে জয়ের পথ দেখায়। শেষ পর্যন্ত চার মেরে নিজের শতরান পূর্ণ করার সঙ্গে সঙ্গেই দলের জয়ও নিশ্চিত করেন তিনি।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে দ্রুত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি শতরান ছিল জশ ইংলিসের, যিনি স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪৩ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছিলেন। এবার সেই রেকর্ডও ভেঙে দিলেন টিম ডেভিড।
বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখাতে পারলেন না, তবুও ইতিহাসের অংশ
টি-টোয়েন্টিতে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে দ্রুত শতরানের বিশ্বরেকর্ড রোহিত শর্মা ও ডেভিড মিলারের, যারা দু’জনেই ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ দলের বিরুদ্ধে। ভারতের উঠতি তারকা অভিষেক শর্মাও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩৭ বলে সেঞ্চুরি করেছেন। ডেভিডের ইনিংসও সেই তালিকায় যুক্ত হলো।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ়েও আধিপত্য অস্ট্রেলিয়ার
মাত্র ১৬.১ ওভারে ২১৫ রান তাড়া করে জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল তারা, যা টেস্ট সিরিজে জয়ের পর দ্বিতীয় সাফল্য। অর্থাৎ, দুই ফরম্যাটেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পরাজিত করল অজিরা।
ডেভিডের কামব্যাক ইনিংস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক উদাহরণ
টিম ডেভিডের এই ইনিংস প্রমাণ করে, সঠিক সময়েই ফর্মে ফেরা কিভাবে দলের জন্য ম্যাচ উইনার হয়ে উঠতে পারে। চোট কাটিয়ে ফিরেই শুধু নিজের নয়, দেশের রেকর্ডও নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এ ইনিংস অনেক দিন মনে রাখবে ক্রিকেটপ্রেমীরা।


