ভারতের তরুণ তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার ঈশান কিষান মাঠে নামলেই দর্শকদের চোখ আটকে যায়। তাঁর ব্যাটিং, আত্মবিশ্বাস আর আগ্রাসী খেলায় ভর করে অনেক ম্যাচে দলের জয় এসেছে। কিন্তু মাঠের বাইরের জীবন এখন যেন অন্য এক গল্প বলছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক আর পরিবারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অদৃশ্য চাপা টানাপোড়েন, যা নিয়ে আলোচনা এখন ক্রমেই বাড়ছে।
কয়েক বছর ধরে মডেল অদিতি হুন্ডিয়ার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা নানা মহলে শোনা যাচ্ছে। দু’জনের একসঙ্গে সময় কাটানোর ছবি একসময় নিয়মিত দেখা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই দৃশ্য যেন হঠাৎ করেই বদলে গেছে। পরিবারের আপত্তি, বিয়ের প্রসঙ্গ, আর ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রশ্ন এখন সামনে চলে এসেছে।
যাঁরা বিষয়টা কাছ থেকে দেখছেন, তাঁদের মতে এই সম্পর্ক নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই দু’জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। বাইরে খুব বেশি প্রকাশ না করলেও, তাঁদের বোঝাপড়া আর বন্ধুত্ব থেকেই ভালোবাসার গল্প শুরু হয়েছিল।
অদিতি পেশায় একজন পরিচিত মডেল। নিজের কাজের জন্য তিনি অনেক আগে থেকেই পরিচিতি পেয়েছেন। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফলতা পেয়েছেন, আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর জনপ্রিয়তা কম নয়। তাঁর Instagram অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার অনুসারী রয়েছে, যেখানে তিনি নিয়মিত নিজের কাজ আর ব্যক্তিগত মুহূর্ত শেয়ার করতেন।
ঈশানের সঙ্গেও মাঝে মাঝে তাঁর ছবি দেখা যেত। কখনও একসঙ্গে ভ্রমণ, কখনও সাধারণ মুহূর্ত—সব মিলিয়ে বোঝা যেত সম্পর্কটা শুধু বন্ধুত্বের মধ্যে আটকে নেই। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সব ছবি কমে যায়। এরপর থেকেই নানা গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে।
একজন খেলোয়াড় যখন জাতীয় পর্যায়ে খেলে, তখন তার জীবনটা অনেকটাই জনসমক্ষে চলে আসে। পরিবারও চায়, সবকিছু যেন স্থিরভাবে এগোয়। এই জায়গাতেই হয়তো দ্বিধা তৈরি হয়েছে।
শোনা যাচ্ছে, ঈশানের পরিবার এখনও তাঁর বিয়ে নিয়ে ভাবতে প্রস্তুত নয়। বিশেষ করে তাঁর মা মনে করেন, এই বয়সে বিয়ে নিয়ে আলোচনা করা ঠিক সময় নয়। তাঁর মতে, এখন ক্যারিয়ারের দিকে পুরো মন দেওয়া দরকার। একজন খেলোয়াড়ের জীবনে প্রতিটি বছর খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়টায় বড় সিদ্ধান্ত নিলে তা খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই হয়তো এই আপত্তি।
অনেক সময় দেখা যায়, পরিবার চায় ছেলে আগে নিজের জায়গা পুরোপুরি শক্ত করে নিক। তারপর বিয়ে বা সংসারের কথা ভাবুক। এখানে সেই মানসিকতাই কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই আলোচনার মাঝেই পরিবারের আরেকজন সদস্যের মতামত কিন্তু একেবারেই আলাদা। ঈশানের ঠাকুরদা খোলাখুলি বলেছেন, নাতি নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারবে। তিনি মনে করেন, কে কাকে বিয়ে করবে, সেটা একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।
এই কথা শুনে অনেকেই ভেবেছিলেন, পরিবার হয়তো বিষয়টা নিয়ে খুব একটা আপত্তি করবে না। কিন্তু খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটা বদলে যায়। ঈশানের মা স্পষ্ট করে বলেন, এখনই বিয়ের প্রসঙ্গ তোলার সময় হয়নি। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, পরিবার এখনও এই বিষয়ে আলোচনা করতে আগ্রহী নয়।
অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, অদিতি মডেল বলেই কি পরিবারের এই দ্বিধা? যদিও সরাসরি এমন কিছু বলা হয়নি, কিন্তু সমাজে এখনও কিছু ধ্যানধারণা কাজ করে। অনেক পরিবার চায়, বউমা একটু শান্ত-স্বভাবের, ঘরোয়া হোক। আবার অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করেন, পেশা কোনো বাধা হওয়া উচিত নয়।
বাস্তবতা হলো, আজকের দিনে মডেলিংও একটি সম্মানজনক পেশা। অনেকেই নিজের পরিশ্রম আর মেধা দিয়ে এই জায়গায় পৌঁছান। তাই শুধু পেশার কারণে আপত্তি থাকলে সেটা সময়ের সঙ্গে বদলানো দরকার—এমন মতও শোনা যাচ্ছে।
আগে যাঁরা দু’জনের ছবি দেখতেন, তাঁরা এখন খেয়াল করছেন—সেইসব মুহূর্ত যেন হঠাৎ করে উধাও হয়ে গেছে। একসঙ্গে ছবি পোস্ট করা প্রায় বন্ধ। এটা দেখে অনেকেই ভাবছেন, হয়তো পরিবারের চাপের কারণে দু’জন একটু দূরে সরে গেছেন।
আসলে সোশাল মিডিয়া কখনও কখনও মানুষের জীবনের একটা অংশই দেখায়। বাস্তবের গল্পটা অনেক সময় ভিন্ন হয়। হয়তো তাঁরা এখনও আগের মতোই একসঙ্গে আছেন, কিন্তু প্রকাশ্যে আনছেন না।
এমনও হতে পারে, অযথা আলোচনা এড়াতেই তাঁরা নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে আড়ালে রাখছেন। কারণ একজন জনপ্রিয় খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে ছোট বিষয়ও বড় হয়ে যায়।
সমর্থকদের সবচেয়ে বড় চিন্তা এখানেই। একজন খেলোয়াড় যখন মানসিক চাপের মধ্যে থাকে, তখন তার পারফরম্যান্সে প্রভাব পড়তেই পারে। কিন্তু ঈশান এখন যে ফর্মে খেলছেন, তাতে মনে হয় তিনি নিজের কাজে পুরো মনোযোগ দিচ্ছেন।
খেলার মাঠে নামলে ব্যক্তিগত সমস্যাকে অনেকেই পাশে রেখে দেন। এটা এক ধরনের শক্তি, যা সব খেলোয়াড়ের থাকে না। ঈশানের ক্ষেত্রেও সেই দৃঢ়তা দেখা যায়। মাঠে তাঁর আত্মবিশ্বাস এখনও আগের মতোই।
সমর্থকেরা তাই আশা করছেন, ব্যক্তিগত জীবনের এই টানাপোড়েন তাঁর খেলায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
অনেক সময় বাবা-মা মনে করেন, সন্তান এখনও ছোট। তারা চায় না, হঠাৎ করে জীবনে বড় পরিবর্তন আসুক। বিশেষ করে যখন ক্যারিয়ার উঠতির দিকে থাকে, তখন তারা আরও সতর্ক হয়ে যায়।
এখানেও হয়তো সেই বিষয়টাই কাজ করছে। ঈশানের মা মনে করছেন, এখন বিয়ের কথা বলার সময় হয়নি। তিনি চান, ছেলে আগে নিজের লক্ষ্য পূরণ করুক। এরপর ধীরে ধীরে সবকিছু ঠিক সময়ে ঘটুক।

এটা একদিক থেকে স্বাভাবিকও। কারণ পরিবার সবসময় সন্তানের ভালো চায়। কখনও কখনও সেই ভালো চাওয়ার পথটা একটু কঠিন হয়ে যায়।
এই গল্পের শেষটা এখনই বলা কঠিন। হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের মন বদলাবে। হয়তো ঈশান নিজের মতো করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। আবার এমনও হতে পারে, সবকিছু ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
ভালোবাসা আর পরিবারের ইচ্ছার মধ্যে ভারসাম্য রাখা সবসময় সহজ নয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক টিকে থাকে বোঝাপড়া আর সম্মানের ওপর। যদি দু’পক্ষ একে অপরকে বুঝতে পারে, তাহলে কোনো বাধাই স্থায়ী হয় না।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ঈশান যেন নিজের খেলায় মন দেন। কারণ তাঁর সামনে এখনও অনেক পথ পড়ে আছে। সমর্থকেরা চান, তিনি মাঠে আগের মতোই জ্বলে উঠুন। ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায়ও হয়তো সময়ের সঙ্গে সুন্দরভাবে গুছিয়ে যাবে।



