ভারতীয় ক্রিকেটের দুই মহাতারকা রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি টেস্ট ক্রিকেট থেকে আচমকা অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আর সেই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে তাঁদের ওয়ানডে ভবিষ্যৎ নিয়েও। ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপের আগে বিসিসিআই এখন নতুন পরিকল্পনায় মন দিচ্ছে। সম্ভাবনা জোরাল হচ্ছে যে, শুভমান গিলের নেতৃত্বেই তৈরি হবে ভারতের ‘নতুন দল’।
রোহিত-কোহলির বয়স ও ফিটনেস: বড় চিন্তা বোর্ডের
২০২৭ সালের নভেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ। সেই সময় রোহিত শর্মার বয়স হবে ৪০ এবং বিরাট কোহলি হবেন ৩৮-এর কাছাকাছি। বোর্ডের এক উচ্চপদস্থ সূত্র জানাচ্ছে, “আমরা আর ঝুঁকি নিতে চাই না। ২০১১ সালের পর থেকে আমরা আর কোনও ওয়ানডে বিশ্বকাপ জিততে পারিনি। এবার পরিকল্পনা চাই দীর্ঘমেয়াদে।”
বিশেষ করে রোহিতের ক্ষেত্রে ফিটনেস এবং ফর্ম দুই ক্ষেত্রেই উঠেছে প্রশ্নচিহ্ন। যদিও কোহলি এখনও পর্যন্ত শারীরিকভাবে সক্ষম এবং ফিট থাকলেও, বয়সের প্রভাব যে ধীরে ধীরে পড়বেই—তা মানছেন অনেকেই।
নতুন প্রজন্ম বনাম অভিজ্ঞতা: কোথায় দাঁড়িয়ে গিল?
ইংল্যান্ড সফরের আগে টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান রোহিত ও কোহলি। নেতৃত্ব তুলে দেওয়া হয় তরুণ ব্যাটার শুভমান গিলের হাতে। সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক হলেও, গিলের নেতৃত্বে ইংল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ ড্র করে সম্মানজনক ফল নিয়ে ফিরেছে ভারত। অনেকেই বলছেন, এটাই বোর্ডের মন পরিবর্তনের বড় কারণ।
গিলের নেতৃত্বে একঝাঁক তরুণ প্রতিভা, যাঁরা ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত। বাছাই পর্ব থেকে মূল দলে সুযোগ পেতে চলেছে এমন কিছু খেলোয়াড় ইতিমধ্যেই চোখে পড়েছেন।
বিসিসিআইয়ের পরিকল্পনা: ভবিষ্যতের দিকেই নজর
বোর্ড সূত্র বলছে, “আমাদের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রোহিত-কোহলি যা দিয়েছেন, তা অস্বীকার করার কিছু নেই। তবে এখন পরবর্তী প্রজন্মকে সুযোগ দেওয়া জরুরি।” বিসিসিআইয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে:
- ২০২৫ সাল থেকে নতুন ওয়ানডে কাঠামো তৈরি
- গিলের অধিনায়কত্বে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করা
- সিনিয়রদের সঙ্গে শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা
- প্রয়োজনে রোহিত ও কোহলিকে মেন্টর বা গাইডের ভূমিকায় রাখা
বোর্ড আরও জানাচ্ছে, কোনো চাপ সৃষ্টি না করেই, সততা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রোহিত-কোহলি নিজেরা চান কিনা খেলতে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ বিশ্বকাপের ‘নতুন ভারত’: গিলই কি সেই ভবিষ্যৎ?
বোর্ডের একাংশ মনে করছে, শুভমান গিলই ভবিষ্যতের সেই অধিনায়ক, যাঁর নেতৃত্বে ভারত ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন যুগে পা রাখতে পারে। বয়সে তরুণ, মানসিকভাবে চাঙ্গা এবং ইতিমধ্যেই ব্যাট হাতে ধারাবাহিকতা প্রমাণ করেছেন। পাশাপাশি তাঁর অধিনায়কত্বের সিদ্ধান্তমূলক দিকটাও আশাজনক।
২০২৭ বিশ্বকাপকে ঘিরে এখন থেকেই গিলকে পুরোপুরি নেতৃত্বের প্রস্তুতি দিতে চাইছে বিসিসিআই। প্রয়োজনে তাঁকে ধাপে ধাপে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হতে পারে, যাতে তিনি অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।
পরিবর্তনের পথে ভারতীয় ক্রিকেট
রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে সোনালি অধ্যায় রচনা করেছেন, সন্দেহ নেই। কিন্তু সময়ের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তন অপরিহার্য। আগামী দু’বছরেই বিসিসিআইয়ের সামনে রয়েছে এক কঠিন সিদ্ধান্ত—অভিজ্ঞতা না ভবিষ্যৎ?
এখন দেখার, এই পরিবর্তনের হাল গিলের ‘নতুন ভারত’ কতটা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে পারে। এবং রোহিত-কোহলির ভূমিকা কীভাবে নির্ধারিত হয়, সেটাই আগামী দিনের জন্য নির্ধারক হতে চলেছে।


