ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলি মানেই আলোচনা, উন্মাদনা আর খবরের শিরোনাম। মাঠের পারফরম্যান্স হোক বা ব্যক্তিগত জীবন—সব কিছুতেই তিনি থাকেন লাইমলাইটে। সম্প্রতি এমনই এক ভাইরাল ছবি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে তৈরি হয়েছে প্রবল হইচই। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, ইংল্যান্ডের রাস্তায় এক নারীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন বিরাট কোহলি। সেই নারী আর কেউ নন, আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত পর্নস্টার কেন্ড্রা লাস্ট। ছবিটি ছড়িয়ে পড়তেই প্রশ্ন উঠেছে—অনুষ্কা শর্মা কোথায়? সত্যিই কি কোহলি কেন্ড্রার সঙ্গে ঘুরছিলেন? নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনও রহস্য?
ভাইরাল ছবির সূত্রপাত: ইনস্টাগ্রাম পোস্ট থেকেই বিতর্ক
৮ জানুয়ারি কেন্ড্রা লাস্ট নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিতে দেখা যায়, বিরাট কোহলি তাঁর কাঁধে হাত রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। পোস্টে কোহলিকে ট্যাগও করা হয়। ক্যাপশনে লেখা ছিল এমন কিছু কথা, যা দেখে অনেকেই ধরে নেন ছবিটি বাস্তব। কেন্ড্রা লেখেন, “হঠাৎ দেখা হয়ে যাওয়ার চেয়ে ভালো কিছু হয় না। বহু মানুষের অনুপ্রেরণা এবং একেবারে মাটির মানুষ।”
এই ক্যাপশনই আগুনে ঘি ঢালে। কারণ, বিরাট কোহলি এমন একজন তারকা যাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ভক্তরা নজরে রাখেন। উপরন্তু, তিনি তখন ইংল্যান্ডেই ছিলেন স্ত্রী অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে। অথচ ছবিতে অনুষ্কার অনুপস্থিতি অনেককেই সন্দেহপ্রবণ করে তোলে।
ভক্তদের প্রতিক্রিয়া: বিশ্বাস, সন্দেহ আর ক্ষোভ
ছবি ভাইরাল হওয়ার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা। কেউ কেউ বলেন, কোহলি বিশ্বমানের সুপারস্টার। ভক্ত বা পরিচিত কেউ ছবি তুলতেই পারেন। আবার অনেকে প্রশ্ন তোলেন, একজন বিবাহিত ক্রিকেটার হয়ে এমন ব্যক্তির সঙ্গে ছবি তোলা কতটা যুক্তিসঙ্গত?
কমেন্ট সেকশনে দেখা যায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ হতবাক, কেউ ক্ষুব্ধ, আবার কেউ পুরো বিষয়টাকে গুজব বলে উড়িয়ে দেন। অনেক ভক্তই অনুষ্কা শর্মার কথা তুলে ধরে বিরাট কোহলির ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
সত্য উদঘাটন: এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো ছবি
সব জল্পনার অবসান ঘটে যখন প্রযুক্তিবিদ ও ফ্যাক্ট-চেকাররা ছবিটি বিশ্লেষণ করেন। স্পষ্ট হয়ে যায়, এই ছবি আদৌ বাস্তব নয়। এটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়ো ছবি।
ছবির কিছু অংশে আলোছায়ার অসামঞ্জস্য, মুখের গঠন এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের অস্বাভাবিকতা নজরে আসে। এগুলো সাধারণত এআই-জেনারেটেড ছবির ক্ষেত্রে দেখা যায়। অর্থাৎ, বিরাট কোহলি বাস্তবে কখনও কেন্ড্রা লাস্টের সঙ্গে সেই ছবিতে ছিলেন না।
এই প্রথম নয়: আগেও বলিউড তারকাদের নিয়ে এআই ছবি
চমকপ্রদ বিষয় হলো, কেন্ড্রা লাস্টের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান এবং সলমন খানের সঙ্গে একই ধরনের এআই-তৈরি ছবি পোস্ট করেছিলেন। সেই সময়ও ছবিগুলি ঘিরে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক।
শুধু তাই নয়, দীপাবলি, হোলি বা অন্যান্য ভারতীয় উৎসব উপলক্ষে ভারতীয়দের শুভেচ্ছা জানিয়ে পোস্ট করতেও দেখা গেছে তাঁকে। অনেকের মতে, ভারতীয় দর্শকদের আকর্ষণ করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
সোশ্যাল মিডিয়া ও জনপ্রিয়তার খেলা
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া মানেই ভিউ, লাইক আর ফলোয়ারের লড়াই। কেন্ড্রা লাস্ট এই মুহূর্তে ইনস্টাগ্রামে প্রায় ৯০ লক্ষ ফলোয়ারের মালিক। বিতর্কিত বা চমকপ্রদ কনটেন্ট পোস্ট করলে যে দ্রুত জনপ্রিয়তা বাড়ে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই।
এই ধরনের এআই ছবি ব্যবহার করে পরিচিত মুখের সঙ্গে নিজেকে জুড়ে দিলে স্বাভাবিকভাবেই নজর কাড়ে। ফলে বাড়ে আলোচনা, বাড়ে ফলোয়ার, বাড়ে ডিজিটাল উপস্থিতি।
বিরাট কোহলির ভাবমূর্তি ও এআই বিভ্রান্তি
বিরাট কোহলি বরাবরই পারিবারিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। অনুষ্কা শর্মার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বহুবার ভক্তদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাই এই ধরনের ভুয়ো ছবি তাঁর ভাবমূর্তিতে সাময়িক ধাক্কা দিলেও, সত্য সামনে আসতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল, এআই প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাড়ছে বিভ্রান্তির ঝুঁকি। বাস্তব আর ভুয়োর ফারাক করা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
কেন এআই কনটেন্ট নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি
আজ একটি ছবি, কাল একটি ভিডিও—এআই দিয়ে তৈরি ভুয়ো কনটেন্ট যে কোনও মানুষের সম্মান, সম্পর্ক বা ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।
তাই কোনও ছবি বা খবর দেখেই বিশ্বাস না করে তার উৎস যাচাই করা জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল মানেই সত্য—এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার সময় এসে গেছে।
সত্য জানাই আসল দায়িত্ব
বিরাট কোহলি ও কেন্ড্রা লাস্টের ভাইরাল ছবি ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত একটি বড় শিক্ষাই দিয়ে গেল। প্রযুক্তির যুগে চোখে দেখা সবকিছু সত্য নয়। একটু সচেতন হলেই অনেক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।
কোহলি তাঁর ক্রিকেট প্রস্তুতিতেই মন দিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য। আর এই ঘটনার পর আবারও প্রমাণিত হলো—গুজব যতই ছড়াক, সত্যের জায়গা শেষ পর্যন্ত অটুটই থাকে।


