ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মানেই উত্তেজনা, নাটক আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ। ঠিক তেমনই এক ম্যাচে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বক্সিং ডের রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে নিউক্যাসল ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিয়েছে রেড ডেভিলরা। ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তরুণ প্যাট্রিক ডোগু, যিনি নিজের প্রথম গোলেই এনে দেন জয়।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে বক্সিং ডের জমজমাট লড়াই
বক্সিং ডে মানেই ইংল্যান্ডে ফুটবল উৎসব। শীতের রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে হাজির ছিল হাজারো সমর্থক। সবাই চাইছিল টানা দুই হারের পর দল ঘুরে দাঁড়াক। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড শুরু থেকেই কিছুটা সতর্ক ছিল। অন্যদিকে নিউক্যাসল ইউনাইটেড আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চেয়েছে প্রথম মিনিট থেকেই।
প্যাট্রিক ডোগুর জাদুকরী ভলি গোল
ম্যাচের ২৪ মিনিটে কর্নার থেকে আসে সেই মুহূর্ত, যা পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দেয়। বক্সের ভেতরে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হয় নিউক্যাসলের ডিফেন্স। সুযোগ বুঝে দুর্দান্ত এক ভলি শটে বল জালে জড়িয়ে দেন প্যাট্রিক ডোগু। গোলটা এতটাই নিখুঁত ছিল যে নিউক্যাসলের গোলকিপারের কিছুই করার ছিল না।
এই গোলটি ডোগুর জন্য বিশেষ। কারণ ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে এটিই তার প্রথম গোল। তরুণ এই ফুটবলারের চোখে-মুখে তখন আত্মবিশ্বাস আর আনন্দের ঝিলিক। এমন গোল যে কোনো খেলোয়াড়ের ক্যারিয়ারে আলাদা জায়গা করে নেয়।
বল দখলে এগিয়ে থেকেও হতাশ নিউক্যাসল
গোল হজম করার পর নিউক্যাসল আরও বেশি আক্রমণ বাড়ায়। ম্যাচজুড়ে তারা ৬৬ শতাংশ বল দখলে রাখে। রেড ডেভিলদের ডেরায় একের পর এক আক্রমণ চালায় তারা। মোট ১৩টি শট নেয় নিউক্যাসল, কিন্তু কোনোটিই জালে পৌঁছায় না।
কখনো ম্যানইউর ডিফেন্স, কখনো গোলরক্ষক দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। ফুটবলে এমনই হয়। বল দখলে রাখা বা বেশি শট নেওয়াই সব নয়। শেষ পর্যন্ত গোলটাই আসল।
রক্ষণে দৃঢ় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড
বল পজেশনে পিছিয়ে থাকলেও রক্ষণে ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দারুণ শৃঙ্খলা। মাঝমাঠ ও ডিফেন্স লাইনের মধ্যে সমন্বয় ছিল চোখে পড়ার মতো। নিউক্যাসলের দ্রুত পাস আর কাটব্যাকগুলো বেশিরভাগ সময়ই ভেস্তে যায়।
ম্যানইউ নিজেও পাল্টা আক্রমণে কম যায়নি। তারা মোট ১০ বার নিউক্যাসলের পোস্টে আক্রমণ করে। যদিও দ্বিতীয় গোল আসেনি, তবে প্রতিটি আক্রমণেই ছিল হুমকি।
টানা দুই হারের পর স্বস্তির জয়
এর আগের দুই ম্যাচে হার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিয়েছিল। সমর্থকদের মধ্যেও ছিল হতাশা। এই জয় তাই শুধু তিন পয়েন্ট নয়, মানসিক দিক থেকেও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়দের উদযাপনেই সেটা স্পষ্ট ছিল। কোচ আমোরিমও স্বস্তির হাসি লুকাতে পারেননি। এমন জয় দলকে নতুন করে বিশ্বাস করতে শেখায়।
পয়েন্ট টেবিলে ম্যানইউর উন্নতি
এই জয়ের ফলে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। শীর্ষ চারে থাকার লড়াইয়ে এটি বড় এক ধাপ। সামনে কঠিন ম্যাচ থাকলেও এই জয় দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেবে।
নিউক্যাসলের জন্য অবশ্য হতাশার রাত। ভালো খেলেও গোল না পাওয়ার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের।
ডোগুকে ঘিরে নতুন আশা
প্যাট্রিক ডোগুর এই গোল শুধু ম্যাচ জেতায়নি, বরং ভবিষ্যতের জন্য নতুন আশা দেখিয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়রা যখন এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নেয়, তখন পুরো দলের শক্তি বাড়ে। সমর্থকরাও নতুন তারকার খোঁজে থাকে, আর ডোগু সেই জায়গায় নিজেকে তুলে ধরলেন।
উপসংহার
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের এই ম্যাচ আবারও প্রমাণ করল, ফুটবল শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। হৃদয়, সাহস আর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তই ফল গড়ে দেয়। প্যাট্রিক ডোগুর একমাত্র গোলেই নিউক্যাসলকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়াল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। বক্সিং ডের রাতে ওল্ড ট্রাফোর্ডে তাই শেষ হাসিটা ছিল রেড ডেভিলদেরই।


