২০২৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপ যেন একের পর এক নাটক উপহার দিচ্ছে। যেই টুর্নামেন্টে ফেভারিট দলগুলোকে সবাই চোখ বন্ধ করে সেমিফাইনালে দেখছিল, সেই মঞ্চেই ঘটে গেল বড় অঘটন। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া বিদায় নিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। আর বৃষ্টিভেজা ম্যাচের সৌজন্যে ইতিহাস গড়ল জিম্বাবোয়ে। ক্রিকেটপ্রেমীরা সত্যিই অবাক।
এই বিশ্বকাপ প্রমাণ করে দিল, টি-২০ ফরম্যাটে এক মুহূর্তেই সবকিছু বদলে যেতে পারে। এখানে অতীতের রেকর্ড নয়, নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা।
অস্ট্রেলিয়া মানেই লড়াকু দল। বড় মঞ্চে তাদের অভিজ্ঞতা এবং মানসিক শক্তি আলাদা জায়গায় থাকে। কিন্তু এবারের টি-২০ বিশ্বকাপে তারা সেই ধার ধরে রাখতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে না পারায় তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়।
ক্রিকেটবিশ্বে এটা নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে অনেকেই অস্ট্রেলিয়াকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ধরেছিলেন। কিন্তু টি-২০ ক্রিকেটে এক-দুইটা ভুল সিদ্ধান্ত, কয়েক ওভার খারাপ বোলিং কিংবা ব্যাটিং ব্যর্থতাই পুরো হিসাব পাল্টে দেয়। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।
জিম্বাবোয়ে সাধারণত আন্ডারডগ হিসেবেই মাঠে নামে। কিন্তু এবার তারা দেখাল, সুযোগ পেলে তারাও ইতিহাস লিখতে পারে। জিম্বাবোয়ে বনাম আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়। সেই এক পয়েন্টই শেষ পর্যন্ত তাদের সুপার এইটে জায়গা করে দেয়।
অধিনায়ক সিকন্দর রাজা-র নেতৃত্বে দলটি পুরো টুর্নামেন্টে লড়াকু মনোভাব দেখিয়েছে। বড় দলের বিপক্ষে সাহসী ক্রিকেট খেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে স্নায়ু ধরে রাখাই তাদের সাফল্যের চাবিকাঠি।
ভাবো তো, একটা বৃষ্টিভেজা ম্যাচও কখনো কখনো পুরো টুর্নামেন্টের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ক্রিকেটের সৌন্দর্য এখানেই।
গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান এখন কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে। পয়েন্ট টেবিলে তাদের ৪ পয়েন্ট। একই পয়েন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে, তবে নেট রান রেটে তারা অনেক এগিয়ে। পাকিস্তানের নেট রান রেট বর্তমানে -০.৪০৩, আর যুক্তরাষ্ট্রের +০.৭৮৭।
এখন যদি পাকিস্তান বনাম নামিবিয়া ম্যাচ বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়, তাহলে দুই দলই এক পয়েন্ট পাবে। সেক্ষেত্রে পাকিস্তানের মোট পয়েন্ট দাঁড়াবে ৫। সেই পরিস্থিতিতে তারা আবারও দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসে সুপার এইট নিশ্চিত করতে পারবে।
মানে বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে এমন—পাকিস্তানের জন্য জয়ের পাশাপাশি বৃষ্টিও এক ধরনের ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্রিকেটে কখনো কখনো প্রকৃতিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
New Zealand national cricket team দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কানাডার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে তারা ৮ উইকেটে সহজ জয় তুলে নেয়। ১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তারা ২৯ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ শেষ করে ফেলে।
এই জয়ে বড় অবদান রাখেন রাচিন রবীন্দ্র এবং গ্লেন ফিলিপস। তাদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং চাপের মুহূর্তে দলকে এগিয়ে দেয়। শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও মাঝের ওভারগুলোতে তারা ম্যাচ পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
এই জয় শুধু দুই পয়েন্ট নয়, দলের আত্মবিশ্বাসও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সুপার এইটে ওঠার দরজা এখন তাদের জন্য পুরোপুরি খোলা।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজরকাড়া পারফরম্যান্স করছেন মহম্মদ শামি। সেমিফাইনাল ম্যাচে জম্মু-কাশ্মীরের বিরুদ্ধে তিনি অসাধারণ বোলিং করেন। প্রথম ইনিংসে ২২.১ ওভারে ৯০ রান দিয়ে ৮ উইকেট তুলে নেন। তার এই পারফরম্যান্সে বাংলা প্রথম ইনিংসে ২৬ রানের লিড পায়।
এর আগেও তিনি অন্ধ্র প্রদেশের বিরুদ্ধে অর্ধশতরান করেছিলেন। আবার সার্ভিসেসের বিপক্ষে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। অর্থাৎ, ব্যাট ও বল—দুই বিভাগেই তিনি নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করছেন।
একজন পেসারের জন্য এমন ধারাবাহিকতা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। মনে হয়, তিনি যেন প্রতিটি ম্যাচে নিজেকে নতুন করে প্রমাণ করার মিশনে নেমেছেন।
মহিলাদের যুব এশিয়া কাপেও ভারতের জয়যাত্রা অব্যাহত। নেপালের বিরুদ্ধে তারা ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয়, তাও আবার ৭৩ বল হাতে রেখেই। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল ভারতের হাতেই।
এই জয় শুধু স্কোরবোর্ডে নয়, মানসিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। টানা ভালো পারফরম্যান্স দলকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। তরুণ ক্রিকেটাররা এখন বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগ পাচ্ছে, আর সেটাই ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক।
টি-২০ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো অনিশ্চয়তা। ২০ ওভারের খেলায় এক ওভারেই ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। আজ যে দল এগিয়ে, কাল সেই দলই বিদায় নিতে পারে।
২০২৬ সালের এই বিশ্বকাপ সেটাই আবারও মনে করিয়ে দিল। অস্ট্রেলিয়ার মতো দল বিদায় নিচ্ছে, জিম্বাবোয়ে সুপার এইটে উঠছে, পাকিস্তানের ভাগ্য নির্ভর করছে বৃষ্টির ওপর, আর নিউজিল্যান্ড দাপট দেখাচ্ছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটা রোমাঞ্চকর সময়। প্রতিটি ম্যাচ এখন গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ভুলও বড় মূল্য চোকাতে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই টি-২০ বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটা যেন টানটান উত্তেজনায় ভরা এক গল্প। যেখানে প্রতিদিন নতুন চমক, নতুন সমীকরণ আর নতুন নায়ক তৈরি হচ্ছে। আর আমরা দর্শক হিসেবে সেই নাটকের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি।



