ক্রিকেট মানেই আবেগ। আর সেই আবেগ যদি হয় ভারত বনাম পাকিস্তান, তাহলে তো কথাই নেই। এই ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে থাকে যে, মনে হয় পুরো উপমহাদেশ একসঙ্গে শ্বাস নিচ্ছে। কিন্তু এবার সেই উত্তেজনার মাঝেই ঢুকে পড়েছে বড়সড় দুশ্চিন্তা—নাগাড়ে বৃষ্টি।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, টি-২০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ম্যাচে মুখোমুখি হওয়ার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ম্যাচ শুরুর আগেই আকাশের মুখ ভার। কলম্বোয় টানা বর্ষণ মাঠের চেহারা বদলে দিয়েছে। এখন প্রশ্ন একটাই—মহারণ কি সত্যিই হবে?
কলম্বোয় শনিবার রাত থেকেই ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা থেকেই বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশ জোরালো। সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রায় অর্ধেকের বেশি। সময় যত গড়াবে, সেই সম্ভাবনাও বাড়বে।
ভাবো তো, সন্ধ্যা ৭টায় ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা। আর ঠিক সেই সময়েই যদি মেঘ নামিয়ে দেয় ঝুম বৃষ্টি, তাহলে মাঠে বল গড়াবে কীভাবে? ক্রিকেটাররা তো আর সাঁতার কাটতে নামবেন না!
আবহাওয়া রিপোর্ট বলছে, দিনের তাপমাত্রা থাকবে প্রায় ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা থাকবে প্রায় ৭৫ শতাংশ। তার মানে গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় খেলাটা এমনিতেই কঠিন হতো। তার ওপর যদি বৃষ্টি যোগ হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল।

এবার আসল চিন্তার জায়গা এখানেই। এই ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের জন্য কোনও রিজার্ভ ডে রাখা হয়নি। অর্থাৎ বৃষ্টির কারণে যদি পুরো ম্যাচ বাতিল হয়, তাহলে দুই দলই পাবে ১ পয়েন্ট করে।
এমন পরিস্থিতি কেউই চায় না। সমর্থকরা তো নয়ই, খেলোয়াড়রাও না। কারণ এই ম্যাচ শুধু দুই পয়েন্টের লড়াই নয়, এটা মান-সম্মানের প্রশ্ন। মাঠে জিতে দেখানোর সুযোগ।
আম্পায়াররা অবশ্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করবেন ম্যাচটা অন্তত ৫ ওভারের হলেও করাতে। টি-২০ ফরম্যাটে কম ওভারেও ফল বের করা সম্ভব। কিন্তু যদি বৃষ্টি একেবারে থামতেই না চায়, তাহলে কিছুই করার থাকবে না।
এই মুহূর্তে গ্রুপ এ-তে দুই দলই দুর্দান্ত ফর্মে আছে। দুই ম্যাচ খেলে দুই দলই জিতেছে। দু’দলেরই ঝুলিতে ৪ পয়েন্ট।
তবে নেট রান রেটের হিসেবে ভারত এগিয়ে আছে। তাই তারা তালিকার শীর্ষে। পাকিস্তান সমান পয়েন্ট পেয়েও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
এখন যদি এই ম্যাচ বাতিল হয়, তাহলে সমীকরণ খুব একটা বদলাবে না। কিন্তু জিতলে যে দল এগিয়ে যাবে, তারা মানসিক দিক থেকেও বিশাল সুবিধা পাবে।
টি-২০ ক্রিকেটে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস বলছে একতরফা গল্প। এখন পর্যন্ত মোট ১৩ বার টি-২০ আন্তর্জাতিক ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান।
এর মধ্যে ১০ বার জিতেছে ভারত। পাকিস্তান জিতেছে মাত্র ৩ বার।
মানে, এই ছোট ফরম্যাটে ভারতের দাপট স্পষ্ট। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে, ২০২৫ এশিয়া কাপে ভারত টানা তিনবার পাকিস্তানকে হারিয়েছে। এমন রেকর্ড যে কোনও দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
তবে ক্রিকেটে অতীত সবসময় ভবিষ্যৎ বলে দেয় না। একটা দিন খারাপ গেলেই চিত্র পাল্টে যায়। তাই পাকিস্তানকেও হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এবারের বিশ্বকাপে ভারতীয় দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সূর্যকুমার যাদব। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং আর সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি পরিচিত।
তার নেতৃত্বে দল প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী শুরু করেছে। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ভারতীয় শিবির। ব্যাটিং লাইনআপ গভীর, বোলিং ইউনিটও ভারসাম্যপূর্ণ।
অন্যদিকে পাকিস্তানও টানা দুই ম্যাচ জিতে ছন্দে আছে। তাদের পেস আক্রমণ বরাবরই বিপজ্জনক। নতুন বলে যদি উইকেট তুলে নিতে পারে, তাহলে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে সময় লাগবে না।
ধরো, ম্যাচ দেরিতে শুরু হলো। তখন ওভার কমে যেতে পারে। টি-২০তে ওভার কম মানেই আরও আক্রমণাত্মক খেলা।
ব্যাটসম্যানরা প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলতে চাইবেন। বোলাররা ইয়র্কার আর স্লোয়ারে ভরসা করবেন। ফিল্ডিংয়ের গুরুত্ব বেড়ে যাবে কয়েকগুণ।

আবার, ভেজা মাঠে ফিল্ডিং করাও কঠিন। বল হাত থেকে পিছলে যেতে পারে। আউটফিল্ড ধীর হলে বাউন্ডারি পাওয়া কঠিন হয়। মানে পুরো ম্যাচের চরিত্রই বদলে যেতে পারে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানে শুধু ক্রিকেট নয়। এটা আবেগ, ইতিহাস, প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর গর্বের লড়াই। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান—সব জায়গায় একটাই আলোচনা।
কিন্তু প্রকৃতির উপর তো কারও হাত নেই। বৃষ্টি যদি থামেই না, তাহলে সব পরিকল্পনা মাঠেই মারা যাবে।
তবু আশা করা যেতেই পারে, আবহাওয়া একটু সহানুভূতিশীল হবে। অন্তত কয়েক ঘণ্টার জন্য আকাশ পরিষ্কার হবে। যাতে দুই দল মাঠে নেমে লড়াইটা করতে পারে।
শেষ কথা বলি—ক্রিকেটে অনেক নাটক দেখেছি আমরা। শেষ মুহূর্তে রোদ উঠেছে, ম্যাচ হয়েছে, আর ইতিহাস তৈরি হয়েছে। তাই হতাশ হওয়ার আগে একটু অপেক্ষা করা যাক।
হয়তো এই বৃষ্টিভেজা আকাশই কাল সরে গিয়ে জায়গা করে দেবে এক দারুণ মহারণের জন্য। আর আমরা আবার দেখব ব্যাট-বলের লড়াই, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে মাঠেই—বৃষ্টিতে নয়।

