ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের লড়াই মানেই অন্যরকম উত্তেজনা। এই ম্যাচে শুধু দুই দল নয়, আবেগ আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাও মুখোমুখি দাঁড়ায়। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে এই বড় ম্যাচের দিকে।
কিন্তু এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগেই আকাশ যেন ভ্রুকুটি করছে। বৃষ্টির আশঙ্কা ঘিরে ধরেছে ম্যাচকে। আর সেই কারণেই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন—যদি ম্যাচটাই না হয়, তাহলে সুপার এইটে কারা এগিয়ে যাবে?
কলম্বোর আর প্রেমদাসা স্টেডিয়াম-এ এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু আবহাওয়ার পূর্বাভাস খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। আগের রাত থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আর ম্যাচ চলাকালীনও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ পুরোপুরি হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বড় ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় চিন্তা এখন আবহাওয়া। যদি বৃষ্টি মাঝপথে খেলা থামিয়ে দেয় বা একেবারেই ম্যাচ শুরু করা না যায়, তাহলে ফলাফল নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। তখন পয়েন্ট ভাগাভাগি হতে পারে। আর সেখান থেকেই শুরু হবে আসল অঙ্ক কষা।
এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত দুই দলই ভালো খেলেছে। কেউই বড় ধাক্কা খায়নি। তাই এই ম্যাচটা সরাসরি ‘মরণ-বাঁচন’ না হলেও, গ্রুপের শীর্ষে কে থাকবে তা অনেকটাই ঠিক করে দেবে। এমনকি ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর ওপরও এর প্রভাব পড়বে।
এখন পর্যন্ত হিসাব বলছে, গ্রুপ এ থেকে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল এবং পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল—দুই দলই সুপার এইটে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে। কিন্তু ক্রিকেটে হিসাব সব সময় একরকম থাকে না। একটি ম্যাচই অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারে।
ধরা যাক, পাকিস্তান এই ম্যাচে হেরে যায়। তাহলে তিন ম্যাচ শেষে তাদের পয়েন্ট দাঁড়াবে চার। তখন শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিরুদ্ধে জয় তাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। যদি তারা সেই ম্যাচ জিতে যায়, তাহলে মোট ছয় পয়েন্ট নিয়ে সহজেই পরবর্তী পর্বে চলে যাবে।
অন্যদিকে, যদি নামিবিয়ার বিপক্ষেও পাকিস্তান হেরে যায়, তবুও তাদের বড় ক্ষতি হবে না। কারণ নামিবিয়া এখনও পয়েন্টের খাতা খুলতে পারেনি। তাই তারা দুই পয়েন্ট পেলেও পাকিস্তানকে টপকে যাওয়া তাদের পক্ষে কঠিন হবে।
অন্য এক পরিস্থিতিতে ছবিটা একেবারে বদলে যেতে পারে। যদি ভারত পরপর দুই ম্যাচে হেরে যায়—একটা পাকিস্তানের কাছে, আরেকটা নেদারল্যান্ডসের কাছে—তাহলে সমস্যা তৈরি হবে। তখন পয়েন্টের দিক থেকে দুই দলই সমানে এসে দাঁড়াতে পারে।
এই অবস্থায় শেষ কথা বলবে নেট রানরেট। যার রানরেট ভালো থাকবে, সেই দলই এগিয়ে যাবে। মানে একটা ম্যাচের ছোট ছোট মুহূর্তও তখন খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কয়েকটা অতিরিক্ত রান বা একটা উইকেট—সবকিছুই তখন বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ সব সময়ই আলাদা। শুধু পয়েন্টের জন্য নয়, মানসিক দিক থেকেও এই ম্যাচের প্রভাব অনেক। যে দল জেতে, তারা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পায়। আর যে দল হারে, তাদের ওপর চাপ বেড়ে যায়।
এই টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তান দুটোই শক্তিশালী দল নিয়ে নেমেছে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—সব দিক থেকেই ভারসাম্য আছে। তাই এই ম্যাচে কে জিতবে, তা আগে থেকে বলা সত্যিই কঠিন।
এই টুর্নামেন্টটা আসলে অনেক বড় কিছুর প্রস্তুতি। ICC T20I World Cup 2026 সামনে রেখে দুই দলই নিজেদের সেরা কম্বিনেশন তৈরি করার চেষ্টা করছে। এই ধরনের বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।
একজন ক্রিকেটার যখন বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভালো খেলেন, তখন তার ওপর দলের ভরসা আরও বেড়ে যায়। তাই এই ম্যাচে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং যেকোনো সময় ম্যাচের গতি বদলে দিতে পারে। মিডল অর্ডারে তিলক বর্মা, হার্দিক পান্ডিয়া কিংবা শিবম দুবে—সবাই ম্যাচ জেতানোর মতো ক্ষমতা রাখেন। বোলিংয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, কুলদীপ যাদবদের মতো অভিজ্ঞরা আছেন।
পাকিস্তানের দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সলমান আলি আগা। তাঁদের ব্যাটিং লাইনআপে আছেন বাবর আজম-এর মতো নির্ভরযোগ্য ব্যাটার। আর বোলিং আক্রমণে শাহিন আফ্রিদি সব সময়ই বড় হুমকি।
এই খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সই অনেক সময় ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দেয়।
ধরা যাক, ম্যাচ পুরোপুরি ভেস্তে গেল। তখন দুই দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করবে। এতে আপাতদৃষ্টিতে দু’দলই লাভবান হবে। কারণ এতে সুপার এইটে যাওয়ার রাস্তা আরও সহজ হয়ে যাবে।
কিন্তু যদি ম্যাচ হয় এবং এক দল বড় ব্যবধানে জিতে যায়, তাহলে রানরেটের হিসাব পাল্টে যেতে পারে। আর সেই জায়গা থেকেই শুরু হবে নতুন চাপ।
ক্রিকেটে একটা কথা খুব প্রচলিত—শেষ বল না পড়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। এই ম্যাচও তার ব্যতিক্রম হবে না।
সবশেষে আসল প্রশ্নটা আবহাওয়া নিয়ে। বৃষ্টি যদি বারবার খেলা থামিয়ে দেয়, তাহলে খেলোয়াড়দের মনোযোগেও প্রভাব পড়ে। ম্যাচ ছোট হয়ে গেলে তখন হঠাৎ করেই পরিস্থিতি বদলে যায়। ছোট ম্যাচে এক-দু’টা বড় শট বা একটা ভালো ওভারই সব হিসাব উল্টে দিতে পারে।
তাই এখন সব চোখ আকাশের দিকে। বৃষ্টি থামলেই মাঠে নামবে দুই দল। আর যদি না থামে, তাহলে পয়েন্টের অঙ্কই ঠিক করে দেবে কারা এগোবে।
ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আবেগ, উত্তেজনা আর অজস্র আলোচনা। এই ম্যাচের ফলাফল শুধু একটি দিনের জয়-পরাজয় নয়, বরং পুরো টুর্নামেন্টের গতিপথ ঠিক করে দিতে পারে। বৃষ্টি থাকুক বা না থাকুক, এই ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা কমবে না।
ক্রিকেটপ্রেমীরা শুধু চাইবে একটা পূর্ণ ম্যাচ দেখতে। কারণ এই দুই দলের লড়াই মাঠে যতবার হয়, ততবারই নতুন গল্প তৈরি হয়। আর সেই গল্পই তো ক্রিকেটকে এতটা জীবন্ত করে রাখে।


