টি-২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এর উত্তেজনা এখন চরমে। সুপার এইট পর্বে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে উঠছে মর্যাদার লড়াই। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়েই ভারতীয় দলের তরুণ ওপেনার অভিষেক শর্মা ফর্মহীনতায় ভুগছেন। টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত তিনি রানের খাতা খুলতে পারেননি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই শুরু হয়েছে সমালোচনা। কিন্তু ঠিক এই মুহূর্তে দলের অধিনায়ক Suryakumar Yadav প্রকাশ্যে এসে অভিষেকের পাশে দাঁড়ালেন এবং স্পষ্ট বার্তা দিলেন—দল তার ওপর ভরসা রাখছে।
চলতি বিশ্বকাপে Abhishek Sharma এখনও পর্যন্ত প্রত্যাশামতো পারফর্ম করতে পারেননি। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান এবং নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে তিন ম্যাচেই তিনি শূন্য রানে আউট হয়েছেন। একজন ওপেনারের জন্য এমন শুরু অবশ্যই উদ্বেগের।
ক্রিকেটভক্তদের অনেকেই মনে করছেন, সুপার এইটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাকে প্রথম একাদশ থেকে বাদ দেওয়া উচিত। বিশেষ করে সামনে যখন শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, তখন চাপ আরও বেড়েছে। তবে টিম ম্যানেজমেন্ট ভিন্ন সুরে কথা বলছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যকুমার যাদব স্পষ্ট ভাষায় অভিষেককে সমর্থন করেন। তিনি বলেন, যারা অভিষেককে নিয়ে চিন্তা করছেন, তাদের জন্যই নাকি তার বেশি চিন্তা হচ্ছে। সূর্যের বক্তব্যে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট—দল জানে, এই তরুণ ব্যাটার কী করতে পারে।
গত বছর অভিষেক যেভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিলেন, সেটার কথাও স্মরণ করিয়ে দেন অধিনায়ক। সূর্যের কথায় বোঝা যায়, টিম ইন্ডিয়া বিশ্বাস করে—একটা বড় ইনিংসই পরিস্থিতি বদলে দিতে পারে।
ক্রিকেটে ফর্ম ওঠানামা করেই। আজ যে ব্যাটার ব্যর্থ, কাল সে-ই ম্যাচ জেতাতে পারে—এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই দল অভিষেককে সময় দিতে চাইছে।
গ্রুপ পর্বে ভারত সহজেই জিতেছে। কিন্তু সুপার এইট একেবারেই আলাদা মঞ্চ। এখানে প্রতিটি দলই শক্তিশালী এবং ছোট ভুলও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলের বিরুদ্ধে জিততে হলে শুরুটা শক্ত করতে হবে। টি-২০ ক্রিকেটে পাওয়ার প্লে-তেই ম্যাচের ভিত্তি তৈরি হয়। প্রথম ছয় ওভারে যদি ওপেনাররা দ্রুত রান তুলতে পারেন, তাহলে মাঝের সারির ব্যাটাররা অনেকটা চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারেন।
এই জায়গাতেই এখন নজর অভিষেকের দিকে।
ভারতের ওপেনিং জুটি হিসেবে Ishan Kishan এবং অভিষেক শর্মার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ার প্লেতে বাউন্ডারি বের করা, স্ট্রাইক রোটেট করা এবং বড় স্কোরের ভিত গড়া—এই তিন কাজই তাদের করতে হবে।
ধরা যাক, প্রথম ছয় ওভারে যদি ভারত ৫০–৬০ রান তুলে ফেলে, তাহলে ম্যাচের গতি পুরো বদলে যায়। তখন তিন নম্বরে নামা Tilak Varma আরও স্বাধীনভাবে শট খেলতে পারবেন। ফলে পুরো ব্যাটিং লাইনআপ অনেক বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠবে।
অনেকের মনে প্রশ্ন—অভিষেক বারবার শূন্য রানে আউট হওয়ার পরও কেন তাকে সমর্থন করছে দল?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে তার সাম্প্রতিক অতীতে। গত এক বছরে টি-২০ ফরম্যাটে অভিষেকের স্ট্রাইক রেট ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ভারতকে বহু ম্যাচে এগিয়ে দিয়েছে। তিনি এমন একজন ব্যাটার, যিনি শুরুটা পেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
টিম ম্যানেজমেন্ট জানে, আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেই তিনি আবার আগের ছন্দে ফিরবেন। তাই এখন তাকে বাদ দেওয়ার বদলে সমর্থন দেওয়াকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতীয় শিবির।
সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ ভারতের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে। এই ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালের রাস্তা অনেকটাই পরিষ্কার হবে। কিন্তু হারলে সমীকরণ জটিল হয়ে যেতে পারে।
এই ম্যাচে ভারতের জয়ের চাবিকাঠি হতে পারে—
শুরুর ছয় ওভারে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং
মিডল অর্ডারের স্থিরতা
ডেথ ওভারে দ্রুত রান
এই তিন জায়গাতেই ওপেনারদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অভিষেকের ব্যাট থেকে রান আসা এখন দলের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।
ভারতীয় দল আপাতত আত্মবিশ্বাসী। টানা জয়ের কারণে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ইতিবাচক। অধিনায়কের প্রকাশ্য সমর্থন অভিষেকের মনোবল বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ক্রিকেটে অনেক সময় একটাই ইনিংস পুরো গল্প বদলে দেয়। হয়তো দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেই সেই সুযোগ পেতে পারেন অভিষেক। যদি তিনি পাওয়ার প্লেতে ঝড় তুলতে পারেন, তাহলে সমালোচনার সুর মুহূর্তে বদলে যাবে।
এই মুহূর্তে সমালোচনা থাকলেও ভারতীয় দল পরিষ্কারভাবে অভিষেক শর্মার পাশেই দাঁড়িয়েছে। সূর্যকুমার যাদবের আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেখিয়ে দিল—দল তার ওপেনারের ওপর আস্থা হারায়নি।
এখন নজর মাঠের পারফরম্যান্সে। ব্যাট কথা বললেই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে। সুপার এইটের মঞ্চে অভিষেক কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন? সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।


