সাধারণত সুলভ শৌচাগার মানেই মানুষের দ্রুত ব্যবহার শেষে বেরিয়ে আসা। কিন্তু চীনের গানসু প্রদেশের দুনহুয়াং শহরে নির্মিত একটি সুলভ শৌচাগার বদলে দিয়েছে সেই ধারণা। এখানে প্রবেশ করলে মানুষ আর সহজে বের হতে চান না। এমনকি বিদেশি পর্যটকরাও মুগ্ধ হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাচ্ছেন এই টয়লেটে।
এই শৌচাগারটি দুই তলা বিশিষ্ট। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা টয়লেট সুবিধা থাকলেও এর ভেতরের সাজসজ্জা মূল আকর্ষণ। আলোকসজ্জা থেকে শুরু করে দেওয়ালের শিল্পকর্ম—সবকিছুতেই মিশে আছে স্থানীয় সংস্কৃতির রঙ ও আধুনিকতার ছোঁয়া। শিল্পভাবনা আর আধুনিক নকশার এই মেলবন্ধন সাধারণ শৌচাগারকে পরিণত করেছে পর্যটনকেন্দ্রে।
শুধু টয়লেট সুবিধাই নয়, এখানে রয়েছে আরও নানা সুযোগ-সুবিধা।বিশ্রামাগার: ভ্রমণক্লান্ত মানুষদের জন্য আরামদায়ক জায়গা।মহিলা ও শিশুদের আলাদা জায়গা: পরিবারসহ আসা ভ্রমণকারীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক ব্যবস্থা।বৃদ্ধ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা: হুইলচেয়ার প্রবেশযোগ্যতা থেকে শুরু করে বিশেষ আসন পর্যন্ত সবই রয়েছে।চেয়ার-টেবিল: চাইলে কিছুক্ষণ বসে বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা।পানীয় বণ্টন ব্যবস্থা: পর্যটক ও স্থানীয়রা সহজে পানীয় গ্রহণ করতে পারেন।
এই শৌচাগারে প্রযুক্তির ছোঁয়াও রয়েছে। কেউ যদি টয়লেটে ৫ মিনিটের বেশি সময় কাটান, তাহলে ডিজিটাল বোর্ডে বিশেষ রঙের আলো জ্বলে ওঠে এবং তার প্রবেশের সময় প্রদর্শিত হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা সতর্ক হতে পারেন এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণও সহজ হয়।
এই সুলভ শৌচাগারটি বাজারের ভেতরেই নির্মিত। চালু হয়েছে মাত্র ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট, কিন্তু ইতিমধ্যেই এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ এবং বিদেশি পর্যটকরাও এখানে সময় কাটাতে আসছেন। অনেকের মতে, জীবনে এত সুন্দর টয়লেট তারা কখনও দেখেননি।
দুনহুয়াংয়ের এই শৌচাগার প্রমাণ করেছে, নান্দনিকতা ও সংস্কৃতির ছোঁয়া থাকলে সাধারণ স্থানও হতে পারে অনন্য পর্যটনকেন্দ্র। যেখানে আগে মানুষ দ্রুত ঢুকে দ্রুত বের হয়ে যেতেন, সেখানে এখন মানুষ স্বেচ্ছায় দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন।
গানসু প্রদেশের দুনহুয়াং শহরের এই সুলভ শৌচাগার এখন শুধু প্রয়োজন মেটানোর জায়গা নয়, বরং শিল্প, সংস্কৃতি ও আধুনিকতার মিশ্রণে গড়ে ওঠা এক অনন্য আকর্ষণ। এটি পর্যটনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং প্রমাণ করেছে—পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য মিলিত হলে শৌচাগারও হয়ে উঠতে পারে বিশ্বব্যাপী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।


