মাত্র এক বছর আগেও যে নারকেলের খোলা আবর্জনা হিসেবে গণ্য হত, আজ তা কার্যত সোনার দরে বিক্রি হচ্ছে। একসময় ভেতরের শাঁস ও জল ব্যবহার করে শক্ত খোলাটি ফেলে দেওয়া ছিল সাধারণ প্রথা। কিন্তু এখন সেই খোলাই কেরালার বাজারে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এক বছর আগে যেখানে নারকেলের দাম ছিল কেজি প্রতি মাত্র ৩০ থেকে ৪০ টাকা (কেরালায় কেজি দরে, পশ্চিমবঙ্গে অবশ্য পিসে বিক্রি হয়), সেখানে এখন শুধু খোলার দামই দাঁড়িয়েছে কেজি প্রতি প্রায় ৩৫ টাকা। এ যেন এক অবিশ্বাস্য রূপান্তর—যা কৃষকদেরও অবাক করে দিয়েছে।
কেরালার মানুষ ঘরে ব্যবহার শেষে নারকেলের খোলা আর ফেলে দিচ্ছেন না। তারা তা আলাদা করে জমিয়ে রাখছেন, কারণ এ খোলার ক্রেতা এখন প্রচুর। ব্যবসায়ীরা উচ্চ মূল্যে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে খোলার জন্য গড়ে উঠেছে এক নতুন বাজার, যেখানে কৃষক ও সাধারণ মানুষ দুই পক্ষই উপকৃত হচ্ছেন।
নারকেলের খোলার এত দাম বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ দেশ ও বিদেশে এর চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। খোলার ভেতরের কাঠিন্য আর উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে অ্যাকটিভেটেড কার্বন, যা পানি পরিশোধনের জন্য অপরিহার্য।
শুধু তাই নয়—প্রসাধনী শিল্পে ব্যবহার হচ্ছে নারকেলের খোলার উপাদান।শিল্প কারখানায় খোলার নানা ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।চীন ও তাইওয়ানের মতো দেশগুলোতে কেরালার নারকেলের খোলার বিপুল চাহিদা রয়েছে।
আগে নারকেল বিক্রি করেই কৃষকরা আয়ের পথ খুঁজতেন। কিন্তু এখন আলাদা করে খোলা বিক্রি করেও তারা মোটা অঙ্কের টাকা পাচ্ছেন। একসময় ফেলে দেওয়া জিনিসই তাদের জন্য হয়ে উঠেছে আয়ের নতুন উৎস। অনেক কৃষক এখন শুধুমাত্র নারকেলের খোলার ব্যবসা করে লাভবান হচ্ছেন।
নারকেলের খোলার এই নতুন বাজার কেবল কৃষককেই নয়, সাধারণ মানুষকেও উপকৃত করছে। ঘরে ব্যবহার শেষে খোলা জমিয়ে বিক্রি করে তারাও পাচ্ছেন বাড়তি আয়ের সুযোগ। অল্প সময়ে কেরালায় নারকেলের খোলা একপ্রকার সোনার মর্যাদা পেয়েছে।
নারকেলের খোলার এই উত্থান প্রমাণ করে, সচেতন বাজার আর প্রযুক্তি কিভাবে আবর্জনাকে সম্পদে পরিণত করতে পারে। আগে যেটা অবহেলিত ছিল, এখন সেটাই আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের পণ্য। কেরালার কৃষকদের জন্য নারকেলের খোলা আজ সত্যিই অমূল্য সোনা।


