নোয়াপাড়া গ্রুপ: দেশের আমদানি খাতের এক নির্ভরযোগ্য নাম
দেশের নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান নোয়াপাড়া গ্রুপ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছে। দেশের শিল্প, কৃষি ও জ্বালানি খাতে সরবরাহের নিরবিচারে এই প্রতিষ্ঠানটি আজ দেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু সম্প্রতি ১৮ জুলাই ভোর রাতে, যশোরের অভয়নগরে নোয়াপাড়া রেলস্টেশন বাজার এলাকায় অবস্থিত নোয়াপাড়া গ্রুপের অফিস ও বাসভবনে ভয়াবহ ককটেল ও পেট্রোল বোমা হামলা দেশজুড়ে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ককটেল ও পেট্রোল বোমা হামলার বিস্তারিত বিবরণ
ঘটনার দিন, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা যায়, চারজন মুখোশধারী যুবক গভীর রাতে এসে একটি ককটেল ও একটি পেট্রোল বোমা ছুঁড়ে মারেন অফিস ও বাসভবনের উদ্দেশে। এ ঘটনার পরপরই তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ও সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য ছিল, নোয়াপাড়ার ব্যবসায়ী মহলে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানো।
পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ
হামলার ৯ দিন পার হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো একজন অপরাধীকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এই ব্যর্থতা ব্যবসায়ী ও শ্রমিক মহলে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমকে। ফলে, নোয়াপাড়া নৌবন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বৃহৎ ব্যবসায়ী ও শ্রমিক সংগঠনগুলো রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
অর্ধদিবস ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ
রবিবার, ২৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত, যশোর-খুলনা মহাসড়কে অনুষ্ঠিত হয় অর্ধদিবস ধর্মঘট ও বিক্ষোভ সমাবেশ। এতে অংশ নেয়:
- নওয়াপাড়া সার-সিমেন্ট-খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতি
- মটর শ্রমিক ইউনিয়ন
- হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন
- ট্রাক ও ট্রান্সপোর্ট শ্রমিক ইউনিয়ন
সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয় নওয়াপাড়া রেলস্টেশন বাজারে, যেখানে হাজার হাজার শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণ অংশ নেন।
বক্তাদের হুঁশিয়ারি: ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম
সমাবেশ থেকে চিহ্নিত চারজন হামলাকারীকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। বক্তারা জানান, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে:
- নওয়াপাড়া নৌবন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হবে
- রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধ করা হবে
- প্রয়োজনে নৌবন্দর অচল করে দেওয়া হবে
বিক্ষোভ সমাবেশে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য
সভাপতিত্ব করেন: আব্দুল আওয়াল খান (সিনিয়র সহ-সভাপতি, সার-সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি)
বক্তব্য রাখেন:
- ফারাজী মতিয়ার রহমান (সভাপতি, অভয়নগর থানা বিএনপি)
- কাজী গোলাম হায়দার ডাবলু (সাধারণ সম্পাদক, থানা বিএনপি)
- আবু নঈম মোড়ল ও রেজাউল করিম মোল্যা (পৌর বিএনপি)
- মশিয়ার রহমান (সাবেক জেলা বিএনপি নেতা)
- শাহ জালাল হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, সার-সিমেন্ট ব্যবসায়ী সমিতি)
- রবিউল হোসেন (সভাপতি, থানা শ্রমিক দল)
- কাজী গোলাম ফারুক (সভাপতি, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি)
- এস এম মুজিবর রহমান (সভাপতি, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাব)
- সরোয়ার মোস্তাফিজ মিলন, কামাল হোসেন, আতাউর রহমান (বিএনপি নেতা)
- হাবিবুর রহমান (নোয়াপাড়া গ্রুপের কর্মকর্তা)
- মাসুদ রানা (শ্রমিক নেতা)
সঞ্চালনায় ছিলেন: শেখ আসাদুল্লাহ ও নূর আলম পাটোয়ারি
নোয়াপাড়া নৌবন্দর: জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান
নোয়াপাড়া নৌবন্দর, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বন্দর হিসেবে সার, সিমেন্ট, কয়লা ও খাদ্যশস্য আমদানিতে বিশাল ভূমিকা পালন করে থাকে। নোয়াপাড়া গ্রুপের মত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্দরকেন্দ্রিক এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে সচল রেখেছে। বন্দর অচল হলে দেশের আঞ্চলিক ও জাতীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ
বক্তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান:
- দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হোক
- ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল জোরদার করা হোক
- ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রতিবেদন ভিত্তিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ন্যায়বিচার অপরিহার্য
এ ধরনের সহিংস হামলা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একজন ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং পুরো ব্যবসা-পরিবেশ ও বিনিয়োগ বান্ধব পরিস্থিতির প্রতীক। তাই সরকারের উচিত, শক্ত হাতে এই হামলার বিচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।


