বলিউডের অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামী রাজ কুন্দ্রা দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কে জর্জরিত। কখনও পর্নকাণ্ড, কখনও আর্থিক কেলেঙ্কারি, কখনও আবার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার মতো বড় বড় ঝড়ের মুখে পড়েছেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ কুন্দ্রা নতুন এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে। পাঞ্জাবে ভয়াবহ বন্যার সময় রাজ কুন্দ্রা বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে নজির স্থাপন করেছেন।
এই প্রবন্ধে আমরা জানব, কিভাবে রাজ কুন্দ্রার বিতর্কিত অতীত থেকে তিনি মানবিক সহায়তার প্রতীকে রূপান্তরিত হচ্ছেন, কীভাবে তিনি তাঁর নতুন ছবি ‘মেহের’-এর আয় বন্যাদুর্গতদের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কেন এই পদক্ষেপ সামাজিক সচেতনতার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করছে।
রাজ কুন্দ্রার নাম দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে আছে।২০২১ সালে পর্নকাণ্ডে জড়িয়ে তিনি একাধিকবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসেন।মুম্বই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং কয়েকদিন জেলে কাটাতে হয়।পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম এবং ১০০ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হওয়ার খবর শিরোনামে আসে।বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও ব্যবসায়িক সম্পদ হারিয়ে তিনি এক কঠিন সময় পার করেছেন।
তবে রাজ কুন্দ্রা এখানেই থেমে থাকেননি। ধীরে ধীরে তিনি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন এবং সিনেমা প্রযোজনা ও অভিনয় জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছেন।
পাঞ্জাব ২০২৫ সালের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি।গত কয়েক সপ্তাহের অতিভারী বৃষ্টিপাতে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।শত শত গ্রাম জলের নিচে চলে গেছে।এখন পর্যন্ত অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আপ সরকার পাঞ্জাবকে ‘বিপর্যস্ত রাজ্য’ ঘোষণা করেছে।
এমতাবস্থায় ভারতীয় সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনা দিনরাত এক করে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। তবু ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন আগের মতোই প্রবল।
রাজ কুন্দ্রা তাঁর আসন্ন পাঞ্জাবি ছবি ‘মেহের’-এর মুক্তির আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন:
“শুক্রবার ‘মেহের’ মুক্তি পাচ্ছে গোটা বিশ্বে। কিন্তু আমার কাছে এটি শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং একটি ‘রিলিফ’ মিশন। ‘মেহের’-এর প্রথম দিনের পুরো বক্স অফিস কালেকশন আমি পাঞ্জাবের বন্যাদুর্গতদের জন্য দান করব।”
এই ঘোষণা প্রকাশের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ কুন্দ্রাকে ব্যাপক প্রশংসা জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
দীর্ঘদিনের বিতর্কের পর রাজ কুন্দ্রা নতুন করে সিনেমা জগতে ফিরে এসেছেন।‘মেহের’ তাঁর প্রথম পাঞ্জাবি সিনেমা, যা ৫ই সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ মুক্তি পেয়েছে।এই ছবির মাধ্যমে রাজ কুন্দ্রা পাঞ্জাবি চলচ্চিত্রশিল্পে আত্মপ্রকাশ করছেন।ছবির প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি যে প্রথম দিনের আয় বন্যাদুর্গতদের দান করবেন, তা পাঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রিতে একটি বড় ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
রাজ কুন্দ্রার পাশাপাশি আরও অনেক পাঞ্জাবি তারকা বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।দিলজিৎ দোসাঞ্জ ইতিমধ্যেই ১০টি গ্রাম দত্তক নিয়েছেন।তিনি খাবার, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন।অভিনেতা এমি ভির্ক ২০০টি পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন।সোনম বাজওয়া তাঁর অনুরাগীদের বন্যাদুর্গতদের সাহায্যে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এমন সময়ে শিল্পী, অভিনেতা এবং প্রযোজকদের এই মানবিক উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তার প্রতি আরও সচেতনতা তৈরি করছে।
রাজ কুন্দ্রার জীবন অনেকটা উত্থান-পতনের গল্প।পর্নকাণ্ড, আর্থিক কেলেঙ্কারি এবং আইনি বিতর্কের পর এবার তিনি নতুনভাবে জনমানসে গ্রহণযোগ্যতা পেতে চাইছেন।তাঁর সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো দেখাচ্ছে, তিনি এখন নিজের অতীতের ভুল পেছনে ফেলে সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিকতার পথে হাঁটতে শুরু করেছেন।
‘মেহের’-এর আয় বন্যাদুর্গতদের জন্য দান করার সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে রাজ কুন্দ্রা শুধুমাত্র ব্যবসায়ী নন, তিনি একজন সচেতন সমাজকর্মী হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছেন।
রাজ কুন্দ্রার এই মানবিক উদ্যোগ শুধুমাত্র তাঁর ভাবমূর্তিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে না, বরং সমাজে সহমর্মিতা ও দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাঞ্জাবের বন্যাদুর্গতদের জন্য তাঁর এই সহায়তা অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
রাজ কুন্দ্রার গল্প প্রমাণ করে, বিতর্কের অন্ধকার থেকে বেরিয়েও আলো ছড়ানো সম্ভব — যদি ইচ্ছাশক্তি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতি প্রতিশ্রুতি থাকে।


