বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন শুধু গ্ল্যামারের জন্যই নয়, বরং তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সিদ্ধান্তের কারণেও বারবার আলোচনায় আসেন। দত্তক ও সারোগেসির মাধ্যমে তিন সন্তানের মা হয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়— কেন সানি নিজে সন্তানধারণের পথে হাঁটেননি? সম্প্রতি এক পডকাস্টে অভিনেত্রী নিজেই খোলাখুলি জানালেন সেই কারণ।
২০১৭ সালে সানি লিওন ও তাঁর স্বামী ড্যানিয়েল ওয়েবার প্রথম কন্যাসন্তান নিশাকে দত্তক নেন। শুরু থেকেই সানি জানিয়েছেন, সন্তান দত্তক নেওয়ার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। জীবনের প্রথম মাতৃত্বের স্বাদ তিনি পান দত্তকের মাধ্যমে।
এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালে যমজ সন্তান— নোয়া ও অ্যাশরকে সারোগেসির মাধ্যমে পৃথিবীতে আনেন সানি ও ড্যানিয়েল। সন্তানদের আগমনে তাঁদের পরিবার পূর্ণতা পেলেও সানির মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে কৌতূহল বাড়তে থাকে।
সানি জানিয়েছেন, যমজ সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য সারোগেট মাকে তাঁরা বড় অঙ্কের অর্থ প্রদান করেছিলেন। শুধু তাই নয়, সেই অর্থ দিয়ে ওই মহিলা একটি বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন এবং ধুমধাম করে বিয়েও করেছেন। সানির মতে, অর্থনৈতিকভাবে তিনি একজন মহিলার জীবন নতুনভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পেরে আনন্দিত।
পডকাস্টে সানি লিওন সাফ জানিয়ে দেন, তিনি নিজে সন্তানধারণ করতে চাননি। এ সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং ভেবেচিন্তে নেওয়া। সানির মতে, সন্তান পাওয়ার একমাত্র উপায় গর্ভধারণ নয়; দত্তক ও সারোগেসির মাধ্যমেও মা হওয়া সম্ভব।
সম্প্রতি অভিনেত্রী সোহা আলি খানের পডকাস্টে আমন্ত্রিত হয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন সানি লিওন। সোহা বলেন, “আজকের পর্বে আমরা বাবা-মা হওয়ার বিভিন্ন পথ নিয়ে আলোচনা করব।” সানির পাশে ছিলেন খ্যাতনামা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ কিরণ কোয়েলহোও, যিনি নারীর স্বাস্থ্য নিয়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন।
২০১১ সালে বিয়ে করেছিলেন সানি লিওন ও ড্যানিয়েল ওয়েবার। তখন তাঁরা দু’জনেই প্রাপ্তবয়স্ক চলচ্চিত্রের জগতে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু জীবনের দিক পরিবর্তন করে তাঁরা বলিউডে পা রাখেন এবং নতুনভাবে পরিবার গড়ে তোলেন। বর্তমানে নিশা, নোয়া ও অ্যাশরকে নিয়ে তাঁদের সংসার পরিপূর্ণ।
সানি লিওনের এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে সাহসী ও অনন্য উদাহরণ। সমাজে এখনও অনেকেই দত্তক বা সারোগেসিকে প্রথাগত মাতৃত্বের বিকল্প হিসেবে মানতে চান না। কিন্তু সানির বক্তব্য ও বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে, সন্তান পাওয়ার প্রতিটি পথই সমান মর্যাদাপূর্ণ।
সানি লিওনের দত্তক ও সারোগেসির মাধ্যমে মা হওয়ার যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রমাণ করেছেন, মাতৃত্ব মানে শুধু গর্ভধারণ নয়; দায়িত্ব, ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগই আসল। তাঁর এই অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে অন্য অনেক দম্পতিকে দত্তক ও সারোগেসির পথে এগিয়ে যেতে সাহস যোগাবে।


