বাংলা চলচ্চিত্র জগত থেকে শুরু করে বলিউডে দীর্ঘ সময় রাজত্ব করেছেন মিঠুন চক্রবর্তী। অসাধারণ নৃত্যকলা, অভিনয় দক্ষতা এবং ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্বের কারণে তাঁকে আজও সারা ভারত “মিঠুনদা” নামেই চেনে। তবে এত জনপ্রিয়তা ও সাফল্য সত্ত্বেও একটি প্রশ্ন বরাবর থেকেই যায়—কেন তিনি সিনেমার পার্টি বা গ্ল্যামারাস ইভেন্টে যান না?
সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মিঠুন চক্রবর্তী খোলাখুলি জানিয়েছেন তাঁর অবস্থান। তাঁর কথায়, সিনেমার পার্টিতে গিয়ে তিনি নিজেকে বেমানান মনে করেন। কারণ, ওইসব অনুষ্ঠানে অধিকাংশ সময় কাটে পরচর্চা, গসিপ এবং মদ্যপান নিয়ে। যা তাঁর স্বভাবের সঙ্গে মোটেও মেলে না।
তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমি পরচর্চা করি না, মদ্যপানও করি না। তাই এ ধরনের পার্টিতে আমার যাওয়া একেবারেই মানানসই নয়।”
মিঠুন চক্রবর্তী বরাবরই পরিবারমুখী মানুষ। পার্টি বা পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে না গিয়ে সেই মূল্যবান সময় তিনি নিজের পরিবারকে দেন। পরিবারের পাশাপাশি তিনি সমান ভালোবাসা দেন তাঁর চারপেয়ে সন্তানদের এবং নিজের বাগানের গাছপালাকে।
তাঁর মতে, এইসব মুহূর্ত তাঁকে অনেক বেশি আনন্দ ও মানসিক শান্তি দেয়, যা সিনেমার পার্টির কৃত্রিম আড়ম্বরের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।
মিঠুন চক্রবর্তী শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, কর্মজীবনেও অগণিত সাফল্যের সাক্ষর রেখেছেন। একসময় এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যখন তাঁর ৬৫টি সিনেমার শ্যুটিং একসঙ্গে চলছিল। মাত্র এক বছরে ১৯টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছিল তাঁর। এই বিরল কৃতিত্বের জন্য তাঁর নাম উঠেছিল লিমকা বুক অফ রেকর্ডসে।
আজকের গ্ল্যামার-নির্ভর চলচ্চিত্র দুনিয়ায় যেখানে পার্টি, গসিপ আর আলো-ঝলমলে অনুষ্ঠান জীবনের অঙ্গ, সেখানে মিঠুন চক্রবর্তীর এই সরল ও সংযমী জীবনযাপন অন্যরকম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি প্রমাণ করেছেন, সাফল্যের আসল মানদণ্ড জনপ্রিয়তা বা পার্টি নয়, বরং কর্মনিষ্ঠা, পরিবারপ্রেম ও নিজস্ব মূল্যবোধে অটল থাকা।
সুপারস্টার মিঠুন চক্রবর্তী কেবল বাংলার নয়, গোটা ভারতের এক অবিস্মরণীয় অভিনেতা। তাঁর অভিনয়, নৃত্যশৈলী এবং সরল জীবনদর্শন আজও অনুরাগীদের অনুপ্রেরণা জোগায়। সিনেমার পার্টি থেকে দূরে থাকলেও তিনি যে মানুষের হৃদয়ে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছেন, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।
👉 তাই বলা যায়, মিঠুন চক্রবর্তী শুধু সিনেমার নায়ক নন, বাস্তব জীবনেও এক অনন্য প্রেরণা।র


