সমুদ্রে ফোন উদ্ধারের নেশা, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন তরুণ
জাপানের হোনশু দ্বীপে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে। ২৭ বছর বয়সী এক মদ্যপ তরুণ, রাতের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করতে গিয়ে নিজের মোবাইল ফোন সমুদ্রে ফেলে দেন। সেটি উদ্ধারের জন্য তিনি কোনও কিছু না ভেবেই সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে সাঁতার কাটতে অক্ষম হয়ে পড়েন এবং প্রবল স্রোতে ভেসে যেতে থাকেন।
মোহনার তীব্র স্রোতে আটকে চার ঘণ্টার জীবন-মরণ লড়াই
ঘটনাটি ঘটে ওকায়ামা প্রদেশের কুরাশিকি সমুদ্রবন্দরে, একটি সেতুর কাছে। মাঝরাতে মদ্যপ অবস্থায় হাঁটতে হাঁটতে তরুণ মোবাইল হারানোর পর সরাসরি জলে ঝাঁপ দেন। কিন্তু তীব্র সমুদ্রস্রোত তাঁকে তীর থেকে ক্রমেই দূরে সরিয়ে নিয়ে যায়। সাঁতার কাটার শক্তি না থাকায় তিনি জীবন রক্ষার্থে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন এবং ধীরে ধীরে মোহনার কাছাকাছি পৌঁছে যান।
উদ্ধারের নাটকীয় মুহূর্ত
সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে সমুদ্রের পানিতে ভেসে থাকার পর ভোরের দিকে মিজুশিমা বন্দরের কর্মীরা তাঁর চিৎকার শুনতে পান। সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। তরুণকে সাহায্য করার জন্য লাইফবোট ছুড়ে দেওয়া হয় এবং নিরাপদে টেনে আনা হয়। এরপর তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার
চার ঘণ্টারও বেশি সময় সমুদ্রে ভেসে থাকার পরও তরুণ জ্ঞান হারাননি। হাসপাতালে পরীক্ষার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল পাওয়া যায়। এক উদ্ধারকারী জানান, “মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে নামা ভয়ঙ্কর ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে নদীর মোহনায় তীব্র স্রোত থাকলে প্রাণহানি নিশ্চিত হতে পারে।”
‘মদই বাঁচিয়েছে’—নেটপাড়ার মিশ্র প্রতিক্রিয়া
ঘটনা জানাজানি হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, অতিরিক্ত মদ্যপানই তাঁকে সাঁতার কাটার বদলে ভেসে থাকার দিকে মনোযোগী করে তোলে, যা শেষমেশ প্রাণ বাঁচাতে সাহায্য করেছে। আবার অনেকে বলেছেন, এটি সম্পূর্ণ অবিবেচনাপ্রসূত কাজ, যা অল্পের জন্য প্রাণহানি ঘটায়নি।
সমুদ্রের স্রোতের বিপদ নিয়ে সতর্কতা
বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রের স্রোত ও মোহনার ঢেউ অত্যন্ত বিপজ্জনক। পানির তাপমাত্রা, স্রোতের দিক, ও শারীরিক সক্ষমতা জীবন রক্ষার মূল উপাদান। বিশেষ করে মদ্যপ অবস্থায় সঠিকভাবে সাঁতার কাটতে না পারায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
শিক্ষণীয় দিক
এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেয়, সমুদ্রের ধারে বা পানির কাছে অযথা ঝুঁকি নেওয়া কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে। ফোন বা অন্য কোনো জিনিস উদ্ধার করতে গিয়ে নিজের জীবন বিপন্ন করা কখনোই উচিত নয়। প্রয়োজনে পেশাদার উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।


