বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের চারটি প্রধান সমুদ্রবন্দর এবং সাতটি অঞ্চলের নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করেছে। সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকালে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক জানান, উত্তর অন্ধ্র প্রদেশ ও দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূলের অদূরে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে। আজ সকাল ৬টায়ও লঘুচাপটি একই স্থানে অবস্থান করছিল।
এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য দেখা দিয়েছে। ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রবন্দরগুলোর উপর দিয়ে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে, যা নৌযান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। পাশাপাশি, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সমুদ্র এলাকায় থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলগুলোর উপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা নৌযান চলাচলকারী ও স্থানীয়দের সতর্ক থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা।
উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য এই সতর্কতা জীবন ও সম্পদ রক্ষার জন্য অত্যন্ত জরুরি। ঝড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির কারণে ছোট নৌকা, ট্রলার ও মাছ ধরার নৌযানগুলো সহজেই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই সতর্ক সংকেত উপেক্ষা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা আবশ্যক।
বাংলাদেশে বর্ষাকাল ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রায়ই বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যা উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রযান চলাচলে বড় প্রভাব ফেলে। এবারের সতর্কতা প্রকৃতির অপ্রত্যাশিত আচরণের প্রতি প্রস্তুত থাকার একটি স্মারক। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলাই সবার নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম উপায়।


