ফাল্গুন মাস এখনও শেষ হয়নি। মার্চও পুরোপুরি শুরু হয়নি বলা যায়। অথচ এর মধ্যেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে ভারতের কিছু অঞ্চলে। আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তন নিয়ে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া দফতর। বিশেষ করে পশ্চিম ভারতের রাজ্য Rajasthan-এ আগাম গরম ও তাপপ্রবাহের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যে সময়টায় সাধারণত হালকা বসন্তের হাওয়া থাকার কথা, সেই সময়েই রোদ যেন আগুন হয়ে উঠছে। ফাল্গুনের দখিনা বাতাসের সেই নরম ছোঁয়া এখন আর নেই। তার জায়গা নিয়েছে ক্রমশ বাড়তে থাকা তাপমাত্রা আর তীব্র গরমের পূর্বাভাস।
ভারতের পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। Jhunjhunu জেলার Pilani শহরে তাপমাত্রা পৌঁছে গেছে ৪০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। মার্চ মাসের শুরুতেই এমন তাপমাত্রা অনেকের কাছেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সাধারণত এই সময় তাপমাত্রা কিছুটা আরামদায়ক থাকার কথা। কিন্তু এবার যেন গরম অনেকটাই আগে এসে হাজির হয়েছে। স্থানীয়দের কথায়, দুপুরের পর থেকেই বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
শুধু একটি জায়গা নয়, Barmer এবং Balotra এলাকাতেও ইতিমধ্যেই তাপপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গত রবিবার থেকেই সেখানে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে।
এছাড়াও রাজ্যের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। যেমন—বিকানের, চুরু, জয়সলমীর, যোধপুর, ফালোদি।
এই শহরগুলোর অনেক জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। অর্থাৎ খুব দ্রুতই এখানেও ৪০ ডিগ্রি ছুঁতে পারে পারদ।
আবহাওয়া দফতরের মতে, এই প্রবণতা যদি কয়েকদিন ধরে চলতে থাকে তাহলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হতে পারে।
শুধু মরুভূমি অঞ্চল নয়, রাজ্যের বড় শহরগুলিতেও এখন গরমের প্রভাব স্পষ্ট। যেমন—জয়পুর, উদয়পুর, আজমির, কোটা।
এই শহরগুলিতেও দিনের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বেশি। বিশেষ করে দুপুরের দিকে রাস্তাঘাট অনেকটাই ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না।
আবহাওয়া দফতর ইতিমধ্যেই কয়েকটি অঞ্চলের জন্য তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে Jaisalmer, Barmer এবং Balotra এলাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাপপ্রবাহ বলতে বোঝায় এমন পরিস্থিতি, যখন টানা কয়েকদিন অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা থাকে এবং তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে। এই সময় রোদে বেশি সময় থাকলে শরীর দ্রুত ডিহাইড্রেশন বা হিটস্ট্রোকের ঝুঁকিতে পড়ে।
তাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা বলছে, সকালটা কিছুটা সহনীয় থাকলেও দুপুরের পর গরম অসহ্য হয়ে উঠছে। ফলে অনেকেই এখন দিনের কাজের সময় বদলে ফেলেছেন।
অনেক দোকানপাটও দুপুরে কিছু সময় বন্ধ রাখা হচ্ছে। অনেকে আবার বিকেলের আগে বাড়ি থেকে বেরই হচ্ছেন না। এমনকি শ্রমিকদের কাজের সময়ও কিছু জায়গায় বদলে দেওয়া হয়েছে, যাতে দুপুরের তীব্র রোদ এড়ানো যায়।
এই আগাম গরমের প্রভাব শুধু রাজস্থানেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের রাজধানী Delhi-তেও ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করেছে।
দিনের বেলা রোদ অনেকটাই তীব্র হয়ে উঠছে। দুপুরের সময় বাইরে থাকলে গরম স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে। যদিও এখনও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছোঁয়নি, তবু আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে পরিস্থিতি আরও বদলাতে পারে।
সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হল—এখনও গ্রীষ্ম পুরোপুরি শুরুই হয়নি। সামনে রয়েছে মার্চের বাকি দিনগুলো, তারপর এপ্রিল, মে এবং জুন—যে সময়টাকে সাধারণত বছরের সবচেয়ে গরম সময় বলা হয়।
যদি মার্চের শুরুতেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছুঁয়ে ফেলে, তাহলে এপ্রিল-মে মাসে পরিস্থিতি কতটা কঠিন হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও অনেক সময় এমন অস্বাভাবিক আবহাওয়া দেখা যায়। ফলে আগাম গরম বা দীর্ঘ তাপপ্রবাহের ঘটনা এখন আগের তুলনায় বেশি হচ্ছে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে অনেকটাই নিরাপদ থাকা যায়। যেমন—

প্রচুর পানি পান করা খুব জরুরি। শরীর যাতে পানিশূন্য না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে রোদে কম বের হওয়াই ভালো।
হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা পোশাক পরা উচিত।
বাইরে গেলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করলে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়।
ছোট মনে হলেও এই অভ্যাসগুলো অনেক সময় বড় বিপদ থেকে বাঁচায়।
সব মিলিয়ে মার্চের শুরুতেই এমন তীব্র গরম অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সতর্কতা জারি করছে।
তবে একটা বিষয় পরিষ্কার—এই বছর গ্রীষ্মটা হয়তো একটু আগেই শুরু হয়ে গেছে। আর যদি এমনই তাপমাত্রা বাড়তে থাকে, তাহলে আগামী কয়েক মাস দেশের অনেক জায়গায় তীব্র গরমের মুখোমুখি হতে হতে পারে মানুষকে।
— সংবাদ সংস্থার সাহায্য নিয়ে লেখা


