কাশ্মীরে ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই মারাত্মক হয়ে উঠছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রধান ফারুক আবদুল্লা জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচশোরও বেশি মানুষ বর্তমানে আটকে রয়েছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। বিপর্যয়ের সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছে কাশ্মীরের চাসোটি এলাকায়, যেখানে বৃহস্পতিবার ভোরে মেঘভাঙা বৃষ্টির সূত্রপাত হয়।
চাসোটি এলাকা প্রতি বছর মাছাইল মাতা যাত্রার জন্য পরিচিত। কিন্তু এবছর মেঘভাঙা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সেই যাত্রা বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে আয়োজকরা। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্যোগের মাত্রা এতটাই গুরুতর যে উদ্ধার অভিযানেও মারাত্মক চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
দুর্যোগের খবর পেয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে শোক প্রকাশ করেছেন এবং জম্মু ও কাশ্মীরের ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং যে কোনো সময় প্রয়োজনীয় সহায়তা পাঠানো হবে।
রাষ্ট্রপতিও এক্স হ্যান্ডেলে গভীর শোকবার্তা জানিয়েছেন, লিখেছেন —
“শোকাহত পরিবারগুলির জন্য আমার সমবেদনা জানাই। উদ্ধারকাজ যেন দ্রুত ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়, সেই প্রার্থনা করছি।”
কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা এক্স হ্যান্ডেলে জানান, তিনি কিশ্তওয়ারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন এবং শুক্রবার ভোরে দুর্যোগপীড়িত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করবেন। তিনি ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র বুঝে উদ্ধার তৎপরতা পর্যালোচনা করবেন এবং আরও কী ধরনের সাহায্য প্রয়োজন, তারও মূল্যায়ন করবেন।
এনডিআরএফ (জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী), সেনা এবং স্থানীয় প্রশাসন একযোগে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে কাজ করছে। তবে প্রবল বৃষ্টিপাত, নদীর পানি বৃদ্ধি এবং ভূমিধসের কারণে উদ্ধার কাজে ধীরগতি তৈরি হয়েছে। তবুও রাতদিন নিরলস প্রচেষ্টা চলছে যাতে যত দ্রুত সম্ভব সব নিখোঁজকে উদ্ধার করা যায়।
কাশ্মীরের ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বহু মানুষ বাড়িঘর হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। প্রশাসন জানিয়েছে, ত্রাণ হিসেবে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ ও পোশাক সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দুর্গতদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধে কাজ করছেন।
আবহাওয়া দপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী কয়েকদিন জম্মু ও কাশ্মীরের পাহাড়ি এলাকায় আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কাশ্মীরে মেঘভাঙা বৃষ্টির এই ভয়াবহ দুর্যোগ শুধুমাত্র প্রাণহানি নয়, ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতিও ডেকে এনেছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করছে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে মানুষের প্রস্তুতি ও দ্রুত তৎপরতার গুরুত্ব কতটা অপরিহার্য। সকলের একযোগে প্রচেষ্টা এবং সহায়তার মাধ্যমে হয়তো এই বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।


