মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রবল বর্ষণ
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৫ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির পাশাপাশি অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। একইসঙ্গে এর একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ফলে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং বঙ্গোপসাগরে রয়েছে মাঝারি অবস্থায়।
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে ভারি বৃষ্টিপাত
রোববার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও দেখা দিতে পারে অতি ভারি বর্ষণ। তবে তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে।
সোম ও মঙ্গলবার: বৃষ্টিপাত আরও বিস্তৃত হবে
সোমবার (৪ আগস্ট) এবং মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা অব্যাহত থাকবে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে। খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগেরও বহু স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি চলবে। কোথাও কোথাও অতি ভারি বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই দুই দিন দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও রাতের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার: তাপমাত্রা কিছুটা কমবে
বুধবার ও বৃহস্পতিবার (৬-৭ আগস্ট) সারা দেশে বজ্রবৃষ্টিসহ ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হবে। দেশের কিছু এলাকায় আবারো অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। এসময় বুধবার তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকলেও বৃহস্পতিবার দিনের ও রাতের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে।
সর্বশেষ বৃষ্টিপাতের পরিসংখ্যান
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে সিলেটে—১৪০ মিলিমিটার। এছাড়া রাঙামাটিতে ৯৩ মিলিমিটার, সৈয়দপুরে ৭০ মিলিমিটার, নেত্রকোনায় ৬৭ মিলিমিটার, তেঁতুলিয়ায় ৫৩ মিলিমিটার, ফেনীতে ৫১ মিলিমিটার, বান্দরবানে ৫০ মিলিমিটার এবং টেকনাফে ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া দেশের প্রায় সব অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাতের হার ছিল উল্লেখযোগ্য।
অতি ভারি বৃষ্টিতে সম্ভাব্য ক্ষতি ও করণীয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতি ভারি বর্ষণের কারণে নদী-নালা ও নিম্নাঞ্চলে হঠাৎ বন্যা দেখা দিতে পারে। শহর এলাকায় জলাবদ্ধতা ও রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষি খাতেও ক্ষতি হতে পারে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে, বিশেষ করে নদীর পার, পাহাড়ি ঢাল ও নিচু এলাকায় বসবাসরতদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
প্রতিদিনের আবহাওয়ার খোঁজ রাখুন
দেশের আবহাওয়ার হালনাগাদ তথ্যের জন্য নিয়মিত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা শুনুন। অতি প্রয়োজন ছাড়া ভারি বৃষ্টির সময় বাইরে বের না হওয়া ভালো।
শেষ কথা
আগামী ৫ দিন দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। অতি ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হতে পারে। তাই সময়মতো প্রস্তুতি ও সাবধানতা মেনে চলাই একমাত্র উপায়। আবহাওয়ার খবরের প্রতি নজর রাখুন এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যান।


