বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর, অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, ৩৯ বছরে প্রথমবারের মতো ভয়াবহ হিট স্ট্রোকের শিকার হয়েছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে এই জীববৈচিত্র্যের স্বর্গের একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে, যা সমুদ্রতলের সৌন্দর্যপ্রেমী পর্যটক ও পরিবেশবিদদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ সমুদ্রের তলে প্রায় ২,৩০০ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। রঙের অসাধারণ বাহার ও বিরল সামুদ্রিক প্রাণীর আবাসস্থল হিসেবে এটি বিশ্বের অন্যতম বিস্ময়। এখানে ৪০০ প্রজাতির প্রবাল রয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো পৃথিবীর অন্য কোথাও নেই। এই বিশাল প্রবাল প্রাচীর শুধু পর্যটনের জন্যই নয়, বরং প্রশান্ত মহাসাগরের এই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২০২৪ সালে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে দক্ষিণ অংশে এর প্রভাব ছিল মারাত্মক। অতিরিক্ত গরমে প্রবালগুলোর রঙ ফিকে হয়ে যায়, যা প্রবাল ব্লিচিং নামে পরিচিত, এবং অনেক প্রবাল মারা যায়। ১৯৮৬ সাল থেকে এই প্রবাল প্রাচীরের উপর নজরদারি করা হলেও, গত ৩৯ বছরে এমন ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।
প্রশান্ত মহাসাগরে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো বিশ্ব উষ্ণায়ন। গ্রীনহাউস গ্যাসের নির্গমন, শিল্পায়নের ধোঁয়া, এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের পানি ক্রমশ গরম হচ্ছে। এর ফলে শুধু প্রবাল নয়, হাজার হাজার সামুদ্রিক প্রজাতি তাদের আবাস হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ধ্বংস হলে এর প্রভাব শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি, মৎস্যশিল্পের ক্ষতি,পর্যটন খাতের আর্থিক ক্ষতি,সমুদ্রের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, এটি বৈশ্বিক পরিবেশের জন্য এক লাল সতর্কবার্তা।
বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীরকে রক্ষা করতে হলে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে—কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করে বিশ্ব উষ্ণায়ন কমানো।সামুদ্রিক সংরক্ষণ এলাকা বৃদ্ধি করা।দূষণ ও শিল্পবর্জ্য নিয়ন্ত্রণ।গবেষণা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাল পুনরুদ্ধার।
গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ শুধু একটি প্রাকৃতিক বিস্ময় নয়, বরং এটি পৃথিবীর সামুদ্রিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। যদি এখনই বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়, তবে এই মহামূল্যবান সম্পদ চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। এখনই সময়—সমুদ্রের এই অমূল্য রত্নকে রক্ষায় সকলের একসঙ্গে এগিয়ে আসা।


