বাংলাদেশের উপকূলীয় ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (২৪ আগস্ট) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া প্রবাহিত হতে পারে। এর সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি এবং বজ্রবৃষ্টি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে নিম্নলিখিত ৭ জেলা—খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার
এই জেলাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এর মানে হলো, ছোট নৌযান ও মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে বিশেষভাবে সাবধান হতে হবে।
এই ধরনের ঝড় সাধারণত আকস্মিকভাবে বয়ে যায় এবং স্থানীয়ভাবে প্রচণ্ড প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে—নদী ও সমুদ্রপথে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে।ছোট নৌযান, লঞ্চ ও ট্রলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।বজ্রপাতের কারণে প্রাণহানির আশঙ্কা বাড়তে পারে।স্থানীয় এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা জনগণকে কিছু সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন—ছোট নৌযান ও ট্রলার যেন নদী বা সমুদ্রে না যায়।বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে অবস্থান না করা।বিদ্যুৎ সরঞ্জাম ব্যবহারে সতর্ক থাকা।ঝড়ের সময় গাছের নিচে বা উঁচু জায়গায় অবস্থান না করা।স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলা।
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় অবস্থান এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে এ ধরনের ঝড়-বৃষ্টি প্রায়শই হয়ে থাকে। বিশেষ করে আগস্ট-সেপ্টেম্বর সময়ে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়, নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আজ দুপুরের মধ্যে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি বয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকায় সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। জনগণকে অনুরোধ করা হচ্ছে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়িয়ে চলতে।


