ভেনেজুয়েলা, বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অপরিশোধিত তেলের ভান্ডার, এখন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের মাধ্যমে আমেরিকার সাম্প্রতিক অভিযান শুরু হওয়ায় দেশটি ও তার প্রাকৃতিক সম্পদ নিয়ে বিতর্ক চরমে পৌঁছেছে।
মাদুরোকে অপহরণ ও বন্দি করার ঘটনা
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে আমেরিকার বাহিনী। তাঁকে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে মেট্রোপলিটান ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলার শাসন পরিচালনা করবে আমেরিকা, কিন্তু এই হঠাৎ ক্ষমতা দখল কেন? অনেকের ধারণা, ট্রাম্পের লক্ষ্য মূলত দেশের বিপুল তেলভান্ডার।
ভেনেজুয়েলার সংরক্ষিত তেলের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল, যা মার্কিন প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মাদুরো সরিয়ে দেওয়া হলে, দাবি করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন দেশের তেলভান্ডারে নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করতে চাইছে।
আমেরিকার মধ্যে বিক্ষোভ
ভেনেজুয়েলায় ট্রাম্পের অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিকাগো ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা নীরব থাকেননি, তাঁদের স্লোগান:
“তেলের জন্য রক্ত চাই না”
“ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার যুদ্ধ চাই না”
শিকাগোর ফেডারেল প্লাজায় জড়ো বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন, “লাতিন আমেরিকার উপর থেকে হাত তুলে নাও।” উল্লেখযোগ্য, এই অভিযান চালাতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, ভোটাভুটি বা জাতীয় সম্মতি ছাড়াই এটি ঘটেছে। তাই অনেক আমেরিকান নাগরিকও এই অভিযানকে সমর্থন করছেন না।
ভেনেজুয়েলার প্রতিক্রিয়া
ভেনেজুয়েলার আদালত ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেসকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ করেছে। ডেলসি মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছেন যে, ট্রাম্পের সামনে মাথা নত করবেন না এবং ভেনেজুয়েলার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করবেন।
ট্রাম্পের অভিযানের আড়ালে যুক্তি
আমেরিকা অভিযানের নেপথ্যে কয়েকটি কারণ দেখিয়েছে:
ভেনেজুয়েলা থেকে অবৈধভাবে অপরাধীদের আমেরিকায় প্রবেশ।
মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ।
অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি জানিয়েছেন, মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী আমেরিকার আদালতে বিচারের আওতায় আনা হবে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:
মাদক-সন্ত্রাসের ষড়যন্ত্র
কোকেন আমদানির চক্রান্ত
মেশিনগান ও অন্যান্য ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রাখার বিষয়
উপসংহার
ভেনেজুয়েলার এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে। দেশটির বিপুল তেলভান্ডারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ট্রাম্পের অভিযান, মাদুরোর অপহরণ, এবং আমেরিকার নাগরিকদের মধ্যে বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে এই ঘটনার আন্তর্জাতিক প্রভাব এখন চোখে পড়ার মতো।


