হড়পা বানের তাণ্ডবে বিপর্যস্ত উত্তরাখণ্ড: সেনা ও প্রশাসনের ব্যাপক উদ্ধার তৎপরতা
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলায় ধারালি গ্রামে মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ হড়পা বান। এই বিপর্যয়ের ফলে হর্ষিল এলাকার একটি সেনা ছাউনি ভেসে যায় এবং কমপক্ষে নয়জন জওয়ান নিখোঁজ রয়েছেন। ভারতের ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (ITBP) সহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত উদ্ধার কাজে নামেন।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে প্রশাসন কেদারনাথ যাত্রা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
ধারালিতে হঠাৎ মেঘভাঙা বৃষ্টি: বাড়ি, হোটেল ও রাস্তাঘাট ধ্বংসস্তূপে পরিণত
ধারালি গ্রামের পাশে ক্ষীরগঙ্গা নদীর তীরে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে শুরু হওয়া মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ হড়পা বানে রূপ নেয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভেসে যায় একাধিক বাড়ি, হোটেল এবং রাস্তা। এই অঞ্চলে থাকা পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
গঙ্গোত্রী যাওয়ার পথে ধারালি হল অন্যতম বিশ্রামস্থান। এই কারণে সেখানে প্রচুর হোটেল, হোমস্টে এবং দোকান রয়েছে, যেগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সেনা ছাউনিতে বিপর্যয়: নিখোঁজ ৯ জন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে সেনাবাহিনী
চার কিলোমিটার দূরের হর্ষিল সেনা ছাউনি হড়পা বানের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ছাউনির অন্তত নয়জন সেনা জওয়ান নিখোঁজ রয়েছেন।
ঘটনার পরপরই বাকি জওয়ানরা উদ্ধারে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৫০ জন সেনা সদস্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাদামাটি পরিষ্কার করে গ্রামবাসীদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। এখন পর্যন্ত ৫০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রশাসন আশঙ্কা করছে, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বৃষ্টির কারণে হেলিকপ্টার ব্যবহার ব্যাহত, তৈরি আছে বিমানবাহিনী
উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও টানা ভারী বৃষ্টির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বিমানবাহিনী এবং অন্যান্য সংস্থাগুলো প্রস্তুত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি হলেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চালানো হবে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি জরুরি বৈঠকে বসে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, সব ধরনের সহায়তা নিয়ে সরকার পাশে রয়েছে।
৪০-৫০টি বাড়ি ধ্বংস, জারি লাল সতর্কতা: দুর্যোগ চলবে ৯ আগস্ট পর্যন্ত
উত্তরাখণ্ডের প্রিন্সিপাল সচিব আরকে সুধাংশু জানিয়েছেন, এই হড়পা বানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে। মাটি ধসে এবং নদী উপচে পড়ায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, বুধবারও ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে, ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। ধারালি সহ আশেপাশের অঞ্চলে লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং পূর্বাভাস অনুযায়ী এই দুর্যোগ ৯ আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা, প্রশাসনের কঠোর সতর্কবার্তা
চামোলি, রুদ্রপ্রয়াগ, আলমোড়া, হরিদ্বার এবং পিথোরাগড় জেলায় স্কুল, কলেজ এবং অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। জনগণকে নিম্নাঞ্চলে না যাওয়ার এবং পাহাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, দুর্যোগ মোকাবিলায় ত্রাণ শিবির, খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
মানবিক বিপর্যয়ে ঐক্যবদ্ধ ভারতীয় সেনা ও প্রশাসন
এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভারতীয় সেনা বাহিনী মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রী ধামি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমরা প্রতিটি নাগরিকের পাশে আছি। সমস্ত সংস্থা একযোগে কাজ করছে যাতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি আর না বাড়ে।”
উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি।


