সিন্ধু সভ্যতা নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণে দীর্ঘদিন ধরে এক ধারনা গড়ে উঠেছে যে, এই সভ্যতা মূলত বিস্তৃত ছিল বর্তমান পাকিস্তান, পশ্চিম উত্তর ভারত ও উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশ অঞ্চলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্থানের থর মরুভূমির বালির তলায় পাওয়া গেছে হরপ্পা সভ্যতার নয়া নিদর্শন, যা সম্পূর্ণ নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এনে দিয়েছে সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতি ও পরিধি নিয়ে।
রাজস্থানের শুষ্ক মরুভূমিতে হরপ্পার চমক
উত্তর রাজস্থানের পালিবাঙ্গা এলাকা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে হরপ্পা সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যেত। কিন্তু এবার সবচেয়ে বিস্ময়কর হলো জয়সলমীর জেলার রাতাদিয়া রি ধেরি নামক স্থানে পাওয়া নিদর্শন, যেখানে আগে কেউ ভাবতেও পারেননি এই সভ্যতার অস্তিত্ব।
এটি এক সম্পূর্ণ শুষ্ক, শুকনো, বালির বিশাল প্রান্তর, যেখানে মানব বসতির কোনো চিহ্ন থাকার সম্ভাবনা ছিল না। কিন্তু এখান থেকে পাওয়া লালচে মাটির পাত্র, পাথরের সরঞ্জাম, মাটির ও শাঁখের চুড়ি, টেরাকোটার সামগ্রী প্রমাণ দেয় এই অঞ্চলে প্রাচীনকালে এক সমৃদ্ধ সভ্যতা ছিল।
নতুন নিদর্শন বদলে দিল পুরনো ধারণা
অধিকাংশ ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা একমত, এই ৪৫০০ বছরের পুরনো নিদর্শনগুলি হরপ্পা সভ্যতারই অংশ, যা পূর্বে জানা বিস্তৃতি থেকে অনেক দূরে অবস্থিত।
এই আবিষ্কার থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, সিন্ধু সভ্যতা শুধুমাত্র নদীর তীরবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং রাজস্থানের শুষ্ক মরুভূমির মধ্যেও তাদের বিস্তৃতি ছিল। এর ফলে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্র পুনঃরায় গড়ে তুলতে হচ্ছে।
কী পাওয়া গেল সেই স্থান থেকে?
স্থানীয় ইতিহাসের অধ্যাপক এবং একটি স্থানীয় ব্যক্তির যৌথ প্রচেষ্টায় বালির তলা থেকে পাওয়া গেছে:
- বিভিন্ন আকারের লালচে মাটির পাত্র
- পাথরের তৈরি সরঞ্জাম
- মাটির ও শাঁখের চুড়ি
- টেরাকোটার বিভিন্ন জিনিসপত্র
এগুলি হরপ্পা সভ্যতার পরিচায়ক বস্তু, যা প্রমাণ করে ঐ অঞ্চলে ছিল উন্নত কৃষ্টি ও সভ্যতার চিহ্ন।
সিন্ধু সভ্যতার মানচিত্রে নতুন অধ্যায়
রাজস্থান, বিশেষ করে থর মরুভূমি, একসময় এক জনমানুষহীন শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হত। কিন্তু এই নয়া আবিষ্কার সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতি ও জীবনের ধরণ সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে।
এতে প্রমাণ হয় যে, হরপ্পা সভ্যতা ছিল এক বিচিত্র ও বিস্তৃত সভ্যতা, যার প্রতিটি অঞ্চলে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য ছিল এবং যেটি শুধুমাত্র নদীর তীরবর্তী এলাকাই নয়, মরুভূমির মধ্যেও ছড়িয়ে ছিল।
উপসংহার
বালির তলায় লুকিয়ে থাকা এই পুরনো নিদর্শনগুলো আমাদের ইতিহাসকে নতুন করে বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। সিন্ধু সভ্যতার বিস্তৃতি ও সাংস্কৃতিক গঠন নিয়ে পুরনো ধারণাগুলো এখন বদলাতে বাধ্য হয়েছে। এই আবিষ্কার ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব ও সংস্কৃতি গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আমাদের সভ্যতার গৌরবময় অতীতের আরও গভীর বোধ এনে দেবে।


