মুম্বইয়ের বিখ্যাত কবুতরখানার সামনে সকালে একটি স্কুটার এসে থামলে এবং একজন ব্যক্তি পায়রাদের জন্য দানা শস্য ছড়াতে শুরু করলে আশেপাশের পরিবেশ মুহূর্তেই মুখরিত হয় অগণিত পায়রায়। তবে এই সাধারণ মনে হওয়া কাজটি এবার বড় ধরনের আইনি জটিলতার সৃষ্টি করলো। সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ তাঁকে খুঁজে চলেছে হন্যে হয়ে।
ঘটনার বিবরণ
সকালে প্রায় ৬টা ৫০ মিনিটে কবুতরখানার সামনের রাস্তার একটি অংশে একটি স্কুটার এসে থামে। স্কুটার থেকে নামেন এক ব্যক্তি। সঙ্গে থাকা দানা শস্য চারদিকে ছড়িয়ে দেন। খাবারের গন্ধ পেয়ে উড়ে আসে অসংখ্য পায়রা, যারা ভিড় জমিয়ে দ্রুত খাবার ভরে ফেলে।
তারপর সেই ব্যক্তি আবার স্কুটারে চড়ে চলে যান। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে স্কুটারের নম্বর প্লেট অস্পষ্ট থাকায় পুলিশের জন্য ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আইনের চোখে পায়রাদের খাবার দেওয়া কেন নিষিদ্ধ?
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী, পায়রাদের এভাবে খাবার খাওয়ানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ, বিশেষ করে জনসম্মুখের চলাচলের জায়গা এবং ঐতিহাসিক বা হেরিটেজ স্থানে। এর কারণগুলো হলো:
- পায়রাদের ভিড় জমানো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়
- পায়রারা অনেকসময় মানবদেহে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ছড়াতে পারে
- এতে বিভিন্ন সংক্রমণ এবং রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়
- মানুষের চলাচল ব্যাহত হয় এবং আবর্জনার সমস্যা তৈরি হয়
এই কারণেই আইনগতভাবে পায়রাদের এভাবে খাওয়ানো রোধ করা হয়েছে।
মুম্বইয়ের কবুতরখানা: এক স্বতন্ত্র চিত্র
মুম্বই শহরের এই কবুতরখানা এলাকা পায়রাদের জন্য পরিচিত একটি জায়গা। প্রতিদিন এখানে বহু মানুষ পায়রাদের খাবার দিতে আসেন। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশের কঠোর হস্তক্ষেপ ও আইনের প্রয়োগে এ ধরনের কাজের বিরুদ্ধে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
পুলিশের তৎপরতা এবং প্রশাসনের বার্তা
পুলিশ বলছে, এই প্রথম মুম্বইতে কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে পায়রাদের খাবার দেওয়ার জন্য এফআইআর দায়ের হল। তাঁরা দ্রুত ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে চাইছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। প্রশাসনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট—জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করা।
চিকিৎসক মহলও এই ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, জনসমক্ষে এভাবে পায়রাদের খাওয়ানো স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ায় এবং রোগসংক্রমণের সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়ায়। তাই এই ধরনের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জনগণের জন্য সতর্কবার্তা
এই ঘটনায় প্রশাসন অন্যদেরও সতর্ক করছে, যাতে কেউ অবৈধভাবে জনসম্মুখে বা হেরিটেজ স্থানে পায়রাদের খাবার না দেন। এতে শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়, মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ে। সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন সময়ের দাবি।
উপসংহার
পায়রাদের প্রতি ভালবাসা থাকা স্বাভাবিক এবং প্রাকৃতিক। কিন্তু জনস্বাস্থ্য ও আইন মেনে চলতে হবে। মুম্বইয়ের কবুতরখানার সাম্প্রতিক এই ঘটনা এক শিক্ষা, যে আমাদের পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। অপরদিকে যারা নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন কঠোর হস্তে কার্যকর হবে।


