ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মেঘভাঙা বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার পর ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। এখনো পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে কমপক্ষে পাঁচজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রশাসন, এবং ১৯০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ধরালিতে তাণ্ডব চালালো প্রকৃতি
উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ধরালি গ্রাম মঙ্গলবার দুপুরে এক ভয়াবহ মেঘভাঙা বৃষ্টির কবলে পড়ে। এরপরই দেখা দেয় তীব্র আকস্মিক বন্যা, যা মুহূর্তেই গ্রামজুড়ে ধ্বংসের ছাপ ফেলে যায়।
ধারালির অবস্থান গঙ্গোত্রী ধাম থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার আগে, যা প্রতি বছর চারধাম যাত্রার সময় হাজার হাজার ভক্তের গন্তব্যস্থল হয়ে ওঠে। এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানেই প্রকৃতির এই ভয়াবহ রূপে সাধারণ মানুষ কার্যত অসহায় হয়ে পড়েছেন।
কীভাবে ঘটে মেঘভাঙা বৃষ্টি?
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (IMD) ভাষ্যমতে, এক ঘণ্টার মধ্যে ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি বৃষ্টিপাত কোনো ছোট এলাকায় হলে তাকে “মেঘভাঙা বৃষ্টি” (Cloudburst) বলা হয়।
এই ধরণের বৃষ্টি বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিধস (landslide) এবং আকস্মিক বন্যা (flash flood) এর মতো বিপদ ডেকে আনে।
উত্তরাখণ্ডের মতো পার্বত্য রাজ্যে এমন বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন, ফলে বিপদ আরো বাড়ে।
মুহূর্তেই সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেল বন্যা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে হঠাৎই কাদা ও পাথর মিশ্রিত তীব্র জলের স্রোত গ্রামমুখী হতে দেখা যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বসতঘর, হোটেল, দোকানঘর সবই জলের তোড়ে ভেসে যায়।
এই দুর্যোগে অনেকেই বাঁচার জন্য আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু জায়গায়। রাতভর তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ১৯০ জনকে নিরাপদে সরানো হয়েছে, কিন্তু বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা ও পদক্ষেপ
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কার সিং ধামি বলেন,
“আমরা দ্রুত উদ্ধার কাজ চালাচ্ছি। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ এবং সেনাবাহিনী যৌথভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্গতদের সাহায্যে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, নিখোঁজদের খোঁজে হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সহায়তায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।


