নেপালের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস রচনা হলো। দেশের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী এবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার রাত সওয়া ৯টায় (স্থানীয় সময়) রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলের কাছে শপথ গ্রহণ করেন ৭২ বছর বয়সী এই প্রখ্যাত আইনবিদ। কাঠমান্ডুর রাষ্ট্রপতি ভবন শীতল নিবাস থেকে সরকারিভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
নারী নেতৃত্বে নতুন মাইলফলক
সুশীলা কার্কী শুধু নেপালের নয়, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। তিনি ২০১৬ সালে প্রথম নারী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হয়েছিলেন। এবার দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি আবারও ইতিহাস গড়লেন।
আন্দোলনকারীদের সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী সুশীলা
সম্প্রতি রাজনৈতিক অস্থিরতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলির পদত্যাগের পর দেশজুড়ে ছাত্র-যুব আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজতে গিয়ে প্রথমে জনপ্রিয় মেয়র এবং র্যাপার বলেন্দ্র শাহের নাম প্রস্তাব করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্র-যুব নেতৃত্ব সর্বসম্মতিক্রমে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কীকে মনোনয়ন দেয়।
সুশীলা শর্ত দেন, অন্তত ১,০০০ জনের লিখিত সমর্থন পেলে তিনি দায়িত্ব নেবেন। আশ্চর্যের বিষয়, প্রথম দিনেই তাঁর সমর্থনে ২,৫০০-র বেশি স্বাক্ষর জমা পড়ে। এভাবেই আন্দোলনকারীদের আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন তিনি।
প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও জয়ী সুশীলা
তবে সহজ পথে ক্ষমতায় আসেননি কার্কী। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের একাংশ প্রাক্তন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার কুল মান ঘিসিঙের নাম সামনে আনে। এতে বিভক্ত হয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। রাস্তায় প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটির মাধ্যমে সুশীলার নামই অনুমোদিত হয় এবং তিনিই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।
পেশাগত ও রাজনৈতিক যাত্রা
সুশীলা কার্কীর কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতা দিয়ে। পরে তিনি আইন অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ২০০৬ সালে তিনি নেপালের সংবিধান খসড়া কমিটির অংশ হন এবং ২০০৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারী তাঁকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।
নির্ভীক, সৎ এবং যোগ্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে কার্কীর পরিচিতি রয়েছে সর্বত্র। তাঁর এই ব্যক্তিত্বই আন্দোলনকারীদের আস্থায় রূপ নেয় এবং তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের আসনে বসায়।
নারীর ক্ষমতায়ন ও ভবিষ্যতের প্রত্যাশা
নেপালের ইতিহাসে প্রথম নারী রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভাণ্ডারীর পর এবার প্রথম নারী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কীর দায়িত্ব গ্রহণ নারীর ক্ষমতায়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাঁর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার নেপালের স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করবে।


