মেকআপ ছাড়াই দীপিকা পাড়ুকোনের ত্বকের জেল্লা আলাদা করে নজর কাড়ে। কাছ থেকে দেখলেও ত্বকে ক্লান্তির ছাপ নেই, নেই অতিরিক্ত প্রসাধনের ভার। অনেকেই ভাবেন, এত ব্যস্ত জীবন আর শুটিংয়ের চাপের মাঝেও কীভাবে তিনি নিজের ত্বক এমন সতেজ রাখেন? আসলে দীপিকার ত্বকের সৌন্দর্য কোনও হঠাৎ পাওয়া জিনিস নয়। এর পেছনে আছে নিয়ম, শৃঙ্খলা আর খুব সহজ কিছু অভ্যাস।
দীপিকা বরাবরই বিশ্বাস করেন, ত্বকের যত্ন শুরু হয় ভেতর থেকে। স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত জলপান, নিয়মিত শরীরচর্চা—সব মিলিয়েই তাঁর ত্বক সুস্থ থাকে। তবে দিনের শুরুতেই যে চারটি ধাপে তিনি ত্বকের পরিচর্যা করেন, সেটাই তাঁর জেল্লার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
সাজগোজে অনীহা, যত্নে নয়
বলিউডে কান পাতলে শোনা যায়, দীপিকা রূপচর্চার চেয়ে শরীরচর্চায় বেশি মন দেন। কথাটা আংশিক সত্যি। তিনি ভারী মেকআপ পছন্দ করেন না। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁকে প্রায়ই দেখা যায় একেবারে সাদামাটা লুকে। কখনও বিমানবন্দরে ঢিলেঢালা পোশাক, খোলা চুল আর ন্যূনতম সাজে হাজির হন। দেখলে মনে হয়, এই তো একটু আগেই ঘুম থেকে উঠেছেন।
কিন্তু এই স্বাভাবিক লুকের পেছনেই লুকিয়ে আছে নিয়মিত ত্বকচর্চার অভ্যাস। দীপিকা পরিস্থিতি অনুযায়ী সাজতে ভালোবাসেন, কিন্তু ত্বকের যত্নে কোনও দিনই অবহেলা করেন না। তিনি নিজে খুব একটা রূপচর্চার কথা প্রকাশ্যে না বললেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কিছু অভ্যাস সামনে এসেছে।
সাবান নয়, মাইল্ড ক্লিনজ়ারই ভরসা
অনেকেই জানেন না, দীপিকা সাধারণ সাবান ব্যবহার করেন না। তাঁর মতে, সাবান ত্বককে রুক্ষ করে তোলে এবং স্বাভাবিক আর্দ্রতা নষ্ট করে। তাই তিনি বরাবরই সাবান থেকে দূরে থাকেন।
তার বদলে তিনি ব্যবহার করেন ফোম-ফ্রি, মাইল্ড ক্লিনজ়ার। এতে ত্বকের ময়লা পরিষ্কার হয়, কিন্তু ত্বক শুকিয়ে যায় না। এই ছোট সিদ্ধান্তটাই দীর্ঘদিনে ত্বকের ওপর বড় প্রভাব ফেলে।
ধাপ এক: ক্লিনজ়িং দিয়ে দিনের শুরু
ঘুম থেকে উঠেই দীপিকার প্রথম কাজ মুখ পরিষ্কার করা। রাতে ত্বকে জমে থাকা তেল, ঘাম আর ধুলো ভালোভাবে পরিষ্কার না করলে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। তাই তিনি সকালবেলায় ক্লিনজ়িংকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
ক্লিনজ়িংয়ের পর তিনি হালকা হাতে মুখে ম্যাসাজ করেন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, ত্বক টানটান থাকে এবং স্বাভাবিক জেল্লা বজায় থাকে। নিয়মিত ম্যাসাজ ত্বককে কোমল রাখতেও সাহায্য করে।
ধাপ দুই: আইসিংয়ে ত্বকে ফ্রেশ ভাব
দীপিকার বিউটি রুটিনে আইসিং খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন ভিডিওতে তাঁকে আইস ফেশিয়াল করতে দেখা গিয়েছে। তবে তিনি কখনওই সরাসরি বরফ ত্বকে লাগান না।
বরফ আর জল মিশিয়ে একটি বাটিতে মুখ ডোবানো বা সুতির কাপড়ে বরফ পেঁচিয়ে আলতো করে মুখে লাগানো—এই পদ্ধতিতেই তিনি আইসিং করেন। এতে ত্বকের রন্ধ্র সঙ্কুচিত হয়, ফোলাভাব কমে এবং মুখে তাৎক্ষণিক সতেজ ভাব আসে। সকালে ঘুমঘুম চোখ আর ক্লান্ত মুখের জন্য এটি দারুণ কাজ করে।
ধাপ তিন: হাইড্রেশন ধরে রাখতে ময়েশ্চারাইজ়ার
ত্বক পরিষ্কার আর ঠান্ডা করার পর দীপিকা কখনওই ময়েশ্চারাইজ়ার বাদ দেন না। তাঁর মতে, ত্বক যত ভালোভাবে হাইড্রেটেড থাকবে, ততই তা উজ্জ্বল দেখাবে।
তিনি এমন ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করেন, যা ত্বকের গভীরে আর্দ্রতা পৌঁছে দেয় এবং ত্বককে ভারী না করে। সকালবেলায় হালকা কিন্তু কার্যকর ময়েশ্চারাইজ়ারই তাঁর পছন্দ। এতে সারাদিন ত্বক নরম থাকে এবং মেকআপ ছাড়াও মুখে একটা স্বাভাবিক জেল্লা দেখা যায়।
ধাপ চার: সানস্ক্রিন ছাড়া এক পা নয়
দীপিকার ত্বকচর্চার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সানস্ক্রিন। তিনি সানস্ক্রিন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরোন না। এমনকি মেঘলা দিনেও নয়।
তিনি এসপিএফ ৫০ যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। সানস্ক্রিন ত্বকের অকালবার্ধক্য, পিগমেন্টেশন, অসম রং এবং সূর্যের পোড়া দাগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এই জায়গায় কোনও রকম আপস করেন না তিনি।
স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই আসল সৌন্দর্যের চাবিকাঠি
দীপিকার ত্বকের জেল্লার পেছনে শুধু প্রসাধনী নয়, তাঁর জীবনযাপনও বড় ভূমিকা রাখে। তিনি পর্যাপ্ত জল পান করেন, সময়মতো ঘুমান এবং শরীরচর্চাকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানিয়েছেন।
এই সব মিলিয়েই তাঁর ত্বক থাকে প্রাণবন্ত। দামি ট্রিটমেন্ট বা জটিল রুটিন নয়, বরং নিয়ম মেনে করা কয়েকটি সহজ ধাপই তাঁর সৌন্দর্যের আসল রহস্য।
সাধারণ মানুষের জন্য কী শেখার আছে
দীপিকার ত্বকচর্চা থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার বোঝা যায়। সুন্দর ত্বকের জন্য অগুনতি প্রোডাক্টের দরকার নেই। দরকার নিয়মিত যত্ন আর নিজের ত্বককে বোঝা।
সকালে ঠিকভাবে মুখ পরিষ্কার করা, ত্বক হাইড্রেট রাখা আর সানস্ক্রিন ব্যবহার—এই তিনটি অভ্যাস যে কেউ চাইলে নিজের জীবনে সহজেই আনতে পারেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের পরিবর্তন চোখে পড়বেই।
দীপিকার মতো জেল্লাদার ত্বক হয়তো সবার হবে না, কিন্তু এই চার ধাপ মেনে চললে ত্বক যে অনেকটাই সুস্থ, সতেজ আর উজ্জ্বল থাকবে, তা নিশ্চিত।


